kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ

নতুন কমিটিতে চাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নতুন কমিটিতে চাঙ্গা

প্রায় দুই যুগ গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন আদর্শ রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হলে জেলা ও মহানগর—এ দুই ভাগে ভাগ হয় জেলার রাজনীতি।

প্রায় ১৮ মাস আগে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

গত ১০ অক্টোবর দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭১ সদস্যের মহানগর কমিটির অনুমোদন দেন। নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে সৎ ও ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি পেয়ে উজ্জীবিত গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ। অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান টঙ্গী পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র ও সদ্য বিলুপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

কমিটির সবচেয়ে বড় চমক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তরুণ এ নেতা গাজীপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে তিনি জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। দলের বাইরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি খুবই জনপ্রিয়। দীর্ঘ সময় পর নেতৃত্বে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটির অন্দরে-বাইরে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়া ত্যাগী নেতাদের মাঝেও আশার আলোর সঞ্চার হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগরে উন্নীত হওয়ার আগে গাজীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন গাজীপুর বারের তিনবারের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজউদ্দিন মিয়া। পোড় খাওয়া এ রাজনীতিককে কমিটির সহসভাপতি রাখা হয়েছে। একই পদে রাখা হয়েছে সাবেক যুবলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আলীম উদ্দিন বুদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুর রউফ নয়ন ও গাজীপুর আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট আমজাত হোসেন বাবুলকেও।

টঙ্গী আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারি বলা হয় শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতিকে। আন্দোলন-সংগ্রাম আর দুর্দিনে অসহায় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো সবার প্রিয় ‘মতি ভাই’কে দেওয়া হয়েছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। তাঁর সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন আতাউল্লাহ মণ্ডল ও মোকসেদ আলম।

গাজীপুর আওয়ামী লীগে দক্ষ সংগঠকের খ্যাতি রয়েছে সাবেক গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহির। তিনি পেয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব। একই পদে রাখা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ইলিয়াস ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মুজিবুর রহমানকেও। সফল ছাত্র নেতৃত্বের জন্য কাজী ইলিয়াস অতীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। গাজীপুরের ভাওয়াল বদলে আলম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস তরুণ নেতা আসাদুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে যুব ও ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, প্রবীণ নেতা বারিক মিয়াজি, সাবেক সফল ছাত্রনেতা আবদুল হাদী শামীম, গাছার সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বাবুল, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষ, কোনাবাড়ীর সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন সুন্দর ও যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তুলাকে।

সূত্র মতে, সাংগঠনিক ও ভোটের রাজনীতিতে শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত গাজীপুর দলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় অনেকে গাজীপুরকে দ্বিতীয় ‘গোপালগঞ্জ’ও বলে থাকে। আন্দোলন, লড়াই-সংগ্রামে এ জেলার আওয়ামী লীগের রয়েছে বর্ণাঢ্য ইতিহাস।

এদিকে আজমত উল্লাহ খান মহানগরের সভাপতি হওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে মাঠে নামেন অনেক নেতা। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটে গত ১০ অক্টোবর। সেদিন দলীয় সভানেত্রী পূর্ণাঙ্গ মহানগর কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি আ ক ম মোজাম্মেল হককে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির অনুমোদন দেন। তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা সবুজ গত কমিটিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

নেতারা বলছেন, জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণার পর দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পুরনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজকে পেয়ে দারুণ খুশি। একইভাবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমকে পেয়েও তাঁরা উচ্ছ্বসিত।

তবে জেলার শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ সবুজ সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় অখুশি। তারা ধরে নিয়েছিল এ পদের দায়িত্ব পাবেন অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়। দুর্জয় পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট রহমত আলীর ছেলে।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন, ঘোষিত নতুন নেতৃত্ব তৃণমূল নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। যোগ্যতাসম্পন্ন, পরীক্ষিত ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব উঠে আসায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হবে। এ কমিটি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন নতুন কমিটির দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন ও আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল খালেকও।


মন্তব্য