kalerkantho

ঘাপলা চলছেই

গরিবের চাল ধনীর ঘরে

নাটোর প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘাপলা চলছেই

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল পেয়েছে বিত্তশালীরা। অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান তাঁর পক্ষে ভোটকরা ব্যক্তিদের তুষ্ট করতে হতদরিদ্রদের তালিকায় বিত্তশালীদের নাম রেখেছেন। এ ইউনিয়নে ২৩০৫টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবুর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ জন ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে ওই অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে চালের দাবিতে ইউনিয়ন সদর থেকে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে হতদরিদ্ররা। অভিযোগকারী আনছার আলী মোল্লা, আব্দুর রশিদ ও মোজাম্মেল হক জানান, যাদের পাকাবাড়ি, জমিসহ পুকুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের দেওয়া হয়েছে হতদরিদ্রদের চালের কার্ড। এসব বিত্তশালীদের মধ্যে অনেকে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন দুস্থদের চাল। পক্ষান্তরে হতদরিদ্ররা চালের জন্য হাপিত্যেশ করছে।

ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগকারীরা দুই হাজার ৩০৫ জনের মধ্যে ১২০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এই তালিকায় বিত্তশালী রয়েছেন ৬৫ জন, একই পরিবারের সাতজনকে এবং এক নামের বিপরীতে দুইটি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে সাতজনকে, স্বামী-স্ত্রীকে কার্ড দেওয়া হয়েছে ছয়টি পরিবারে। তা ছাড়া একটি পরিবারে বাবা-ছেলে-মেয়েকে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (মাঝপাড়া) গ্রামের বিশুমিয়ার (তালিকায় ৪০৫ নম্বর) বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সাদা রঙের পাকা বাড়ি। তাঁর ছেলে মনজু জানান, তাঁদের ৮-১০ বিঘা জমি রয়েছে। সংসারে অভাব নেই। চেয়ারম্যানের পক্ষে ভোট করায় চালের একটি কার্ড দেওয়া হয়েছে। চাল উত্তোলন করে তাঁর এক স্বজনকে দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৫৭০ নম্বর সদস্য রাশিদুল ইসলাম। তাঁর বাবার নাম আ. রাজ্জাক। চন্দ্রপুর বীরবাজারে তাঁদের একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বড় করে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। রাশিদুলের বাবা জানান, তাঁর এক ছেলে প্রকৌশলী। ঢাকায় থাকে। আরেক ছেলে চাকরি করে। তবে হতদরিদ্রদের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এই তালিকায় নাম থাকায় তিনি লজ্জিত।

তালিকায় নাম থাকা আরো অন্তত সাতজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। সংসারে অভাব নেই। ভোটের সময় তাঁরা চেয়ারম্যানকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। চেয়ারম্যান বিনিময়ে তাঁদের নামে ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড দিয়েছেন। লোক দিয়ে তাঁরা সেই চাল তুলেছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমিন আক্তার অভিযোগের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 

 

মন্তব্য