kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কমিটি নিয়ে নাখোশ নেত্রকোনা ছাত্রদল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছয় দিন ধরে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে পদবঞ্চিত নাখোশ নেতাকর্মীরা গত ১৩ অক্টোবর রাতে ওই কার্যালয়ে তালা দেয়।

২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর এ পর্যন্ত জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মুখে দলটির জেলা কার্যালয়ে ৪১ বার তালা ঝোলানো হয়েছে। কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, প্রায় আট বছর ওই কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল।

জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর ফরিদ হোসেন বাবুকে সভাপতি, অনিক মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের ১৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কমিটিতে পদবঞ্চিতরা ওই দিন রাতেই জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ছাড়া ওই কমিটি ঘোষণার পরপরই যোগ্য পদ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ১২ নেতা পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে তাঁরা বিভিন্নভাবে কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করছেন। কিন্তু তাঁদের এসব আন্দোলন নিয়ে নীরব জেলা বিএনপি।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হাসান রুবেল জানান, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। নতুন কমিটির সভাপতি সম্পাদক কেউই ওই কলেজের ছাত্র নন। এই কমিটির যিনি সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি এক সন্তানের জনক। এখানে ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে এই বিতর্কিত কমিটি করার ‘নাটের গুরু’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ভাইয়ার (তারেক রহমান) নাম ভাংগিয়ে তিনি দলটাকে শেষ করতে চাইছেন। বর্তমান কমিটির সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিল, বড় ভাই, আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হব। আমার জন্য একটু খাটাখাটনি করতে হবে। এখন দেখছি সে সম্পাদক না হয়ে সভাপতি হয়েছে। কমিটিতে কঞ্চিকে বাঁশ, আর বাঁশকে কঞ্চি বানানো হয়েছে। দলের দুর্দিনে যাঁরা মামলা-হামলার স্বীকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন, তাঁদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। ’

তবে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি ফরিদ হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা সঠিক। সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। কর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছে। তাদের পরবর্তী যেকোনো সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব। ’

এদিকে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ারুল হক জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের জন্য কেন্দ্রে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।


মন্তব্য