kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে বুনো হাতির তাণ্ডব

শেরপুর ও কক্সবাজারে দুজনের মৃত্যু

শেরপুর ও চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খাদ্যের খোঁজে শেরপুর ও কক্সবাজারের লোকালয়ে ঢুকে বুনো হাতি তাণ্ডব চালিয়েছে। হাতির আক্রমণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সাবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী জানান, সোমবার রাতে কক্সবাজার উত্তর ও বান্দরবানের লামা সংরক্ষিত বনের গহিন জঙ্গল থেকে ১০-১২টি বুনো হাতি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসে। হাতির পাল ওই ইউনিয়নের গাবতলী বাজার, ফতেহঘোনা ও ফাঁসিয়াখালী ঘোনার বসতিতে হানা দেয়। রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়, প্রায় ১০ একর জমির ধানক্ষেত নষ্ট করে। পাশাপাশি দলছুট একটি হাতির পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে গাবতলী বাজারের মো. আবদুল জব্বারের (মৃত) ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৭০) মারা গেছেন।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বি এম জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বনকর্মীরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুনের মশাল নিয়ে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর হাতির দলকে ফের বনের ভেতর ঢুকিয়ে দেন। ’

অন্যদিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা জানান, সোমবার সকালে বালিজুড়ি গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচায় একটি বুনো হাতি মারা পড়ে। এতে হাতির দল উন্মত্ত হয়ে উঠে। দলটি রাতে বালিজুড়ি গ্রামে আক্রমণ চালায়।

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে ৫০-৬০টি হাতি লোকালয়ে আসে। ইডালু শেখের ছেলে ইয়ার হোসেন (৬০) বসতঘর থেকে বের হওয়ার সময় হাতির দলের সামনে পড়েন। একটি হাতি তাঁকে শুঁড় পেঁচিয়ে পায়ে পিষ্ট করলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান।

বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিনে ৯ জন মানুষ বুনো হাতির আক্রমণে মারা গেছে। দুটি হাতিও মারা পড়েছে। সীমান্তে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। ঘটনাগুলো তদন্তে বন বিভাগের তরফ থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ’

 


মন্তব্য