kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও তিন কলেজ দখলে মরিয়া শিবির!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রাম নগরের তিনটি সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের কাছে এই চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিপত্য খোয়ায় জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির।

এই দুটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও সরকারি কমার্স কলেজে ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ মাস ধরে বন্ধ আছে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের সব ছাত্রাবাস। ২৭ বছর ধরে কমার্স কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসটি বন্ধ রয়েছে। ছাত্রাবাসগুলো খুলে দিলে দখল নিয়ে আবার ছাত্রলীগ ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই কলেজ তিনটির ছাত্রাবাসগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে নগরের কাছে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালরের সাতটি ছাত্রাবাস এবং চারটি ছাত্রীনিবাস আড়াই বছর ধরে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে।

জানা যায়, এ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ থেকে ২৪ হাজার, চট্টগ্রাম কলেজে ১৮-১৯ হাজার, মহসিন কলেজে প্রায় ১২ হাজার ও কমার্স কলেজে সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। এই আধিপত্য তারা বজায় রাখতে চাইছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির একসময় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধিপত্য পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ অবস্থায় সরকারি তিন কলেজের ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেকায়দায় পড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজে সব হলে (তিনটি ছাত্র ও একটি ছাত্রীনিবাস) ৫৫০, মহসিন কলেজে দুটি ছাত্র ও একটি ছাত্রীনিবাসে ২৫০ এবং কমার্স কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসে ৩০০ ও একটি ছাত্রীনিবাসে ১০০ আসন রয়েছে। এর মধ্যে কমার্স কলেজের ছাত্রীনিবাস ছাড়া অন্য সব ছাত্রাবাস বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, ‘নগরের সরকারি চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ১৯৮৬ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর ছাত্রশিবিরের দুর্গ ছিল। এ দুটি কলেজের ছাত্রাবাসগুলো ছিল তাদের অস্ত্রের ঘাঁটি। দীর্ঘদিন পর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ফুল দেওয়ার সময় শিবির আমাদের ওপর হামলা চালায়। এরপর শিবিরকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করি। ’ তিনি বলেন, কলেজ দুটি থেকে বিভিন্ন সময় শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার আটক এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। ছাত্রাবাসগুলো ঘিরেই ছিল শিবিরের দখলদারত্ব। ছাত্রাবাসগুলো দখল করতে তারা আবার মরিয়া হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ক্যাডারদের রাজত্ব ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা ক্যাম্পাসে ঢুকি। এর পর থেকে আস্তে আস্তে হলগুলো নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকে। ২০১৪ সালের শেষদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ছাত্রাবাস ও চারটি ছাত্রীনিবাস পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন ক্যাম্পাস শান্ত থাকলেও শিবির বিভিন্নভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ’


মন্তব্য