kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ময়মনসিংহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়

এক পদে দুই কর্তা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ময়মনসিংহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা (পপ) কার্যালয়ের উপপরিচালক পদে দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। একটি সরকারি দপ্তরের জেলা কার্যালয়ের শীর্ষ পদে (একই পদে) দুই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে অদ্ভুত ও দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দুই কর্মকর্তার একজন আর্থিক ও অন্যজন প্রশাসনিক বিষয় দেখছেন।

আলোচিত এ দুই কর্মকর্তার একজন ডা. মো. আব্দুর রউফ, যিনি এ কার্যালয়েই কর্মরত। তিনি আছেন ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের দায়িত্বে। অন্যজন মো. দেলোয়ার হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপপরিচালক পদে আছেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ঢাকা বিভাগের পরিচালক। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদে আব্দুর রউফের যোগদান বৈধ ছিল না। এ কারণে আর্থিক কাজে তিনি আইনি বৈধতা পাচ্ছিলেন না। এ সমস্যার সমাধান না করে অর্থাৎ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে উপপরিচালক পদে নিয়োগ না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমস্যা ছাইচাপা দিতে ঢাকার পদস্থ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়ে ময়মনসিংহে পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ও চিঠিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ডা. মো. আব্দুর রউফ গত ৩১ জানুয়ারি অধিদপ্তরের কোনো আদেশ ছাড়াই ‘নিজ দায়িত্বে’ সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের কাছ থেকে দায়িত্ব নেন। তিনি নবম গ্রেডের কর্মকর্তা। কিন্তু ময়মনসিংহ জেলার অধিকাংশ পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মেডিক্যাল অফিসার পঞ্চম গ্রেডের। নবম গ্রেডের কর্মকর্তা হয়ে উচ্চতর গ্রেডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা থাকাটা দেশের চাকরি বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন গৌরীপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে (পঞ্চম গ্রেড) সহকারী পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) হিসেবে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। নিয়মানুযায়ী আনিছুর রহমানই ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আব্দুর রউফ দায়িত্ব ছাড়েননি।

এদিকে আব্দুর রউফ ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের পদ আগলে রাখলেও অফিসের আর্থিক কাজে তিনি বৈধ কর্মকর্তা না হওয়ায় জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস ময়মনসিংহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে রাখে। তারা গত জুলাই মাসের বেতন-বিলে আপত্তি দিয়ে বিল ফেরত পাঠায়। ঝামেলা বাধে আগস্টের বেতন-বিল পাস নিয়েও। অর্থাৎ আব্দুর রউফের দায়িত্ব পালনকে আইনগতভাবে বৈধ মনে করেনি জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস।

সূত্র জানায়, জেলা পপ অফিসের কর্মকর্তাদের বেতন আটকে যাওয়ায় টনক নড়ে অধিদপ্তরের। কিন্তু অধিদপ্তর নিয়মমতো ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তাকে উপপরিচালকের পদে যোগদানের ব্যবস্থা না করে ঢাকা থেকে একজন কর্মকর্তাকে আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা দিয়ে ময়মনসিংহে পাঠায়। সূত্র মতে, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন গত ৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ময়মনসিংহে পাঠান। দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য সরকারি দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কোনো দপ্তরে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লেই এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সমস্যার সমাধান না করে বিশেষ ব্যক্তিকে বিশেষ কারণে রক্ষা করতে গিয়ে জোড়াতালির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য বিষয়টি দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. আব্দুর রউফ বলেন, তিনি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি প্রশাসনিক বিষয় দেখছেন।

একই বিষয়ে উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেন আর্থিক বিষয়টি দেখছেন।


মন্তব্য