kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কলেজ সরকারীকরণের তালিকা থেকে বাদ

নন্দীগ্রামে তুলকালাম ফুলবাড়িয়ায় হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও ময়মনসিংহ   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সরকারীকরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ছাড়া সরকারীকরণের দাবিতে গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও মহাসড়কে মানববন্ধন করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষের ব্যর্থতার কারণে ৪৯ বছরের পুরনো এবং সরকারীকরণের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা এ কলেজকে বাদ দিয়ে ১৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত নন্দীগ্রাম মহিলা ডিগ্রি কলেজ সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত রবিবার সারা দেশে নতুন করে ২৩টি কলেজ সরকারীকরণের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় নাম নেই নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের।

মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে এক হাজার ৭০০। ফলাফলও ভালো। সরকারীকরণের জন্য এলাকার সংসদ সদস্য ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির সুপারিশও ছিল। সরকারীকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার তালিকায় উপজেলার ক্রমিকের শীর্ষে ছিল এ কলেজ। সব দিক থেকে যোগ্য হওয়ার পরও এ কলেজকে বাদ দিয়ে ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত একই উপজেলার অন্য একটি কলেজকে সরকারীকরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, রবিবার সরকারীকরণের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে কলেজে এসে শিক্ষার্থীরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। সরকারীকরণ না হওয়ার কারণ জানতে তারা অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে সেখানে তাঁকে না পেয়ে তাঁর কক্ষের দরজা, জানালা ও আসবাব ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে কিছু আসবাব মাঠে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল সোয়া ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করে। টানা বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে এ মানববন্ধন।

এদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারি না হওয়ার প্রতিবাদে আধাবেলা হরতাল পালন করেছে ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসী। গতকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ হরতাল পালিত হয়। হরতাল চলাকালে বন্ধ ছিল উপজেলা সদরের দোকান, দূরপাল্লার বাসসহ অন্য যান। এদিকে সকাল ৯টার দিকে কলেজের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করে। পরে আবার আন্দোলনকারীরা একত্র হয়ে কলেজের অধ্যক্ষের চেয়ার ও তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। আজ মঙ্গলবারও হরতাল ডেকেছে আন্দোলনকারীরা।


মন্তব্য