kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সব ছেড়েও ভালোবাসার দেখা পেল না রানী

বরগুনায় শ্বশুরবাড়িতে তরুণীর লাশ

বরগুনা প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভালোবাসার টানে মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ত্যাগ ও ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন বগুড়ার মেয়ে রানী (১৮)। কিন্তু ভালোবাসার দেখা তিনি পাননি।

বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়িসহ ভালোবাসার সেই মানুষের (স্বামী) হাতে নির্যাতিত হতেন তিনি। গতকাল সোমবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামে বসতঘরের দোতলা থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই।

বগুড়া জেলার নয়ন চন্দ্রের মেয়ে রানী। জীবিকার জন্য রাজধানী ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ নেন তিনি। সেখানে চার বছর আগে পরিচয় হয় বরগুনার ছোনবুনিয়া গ্রামের মো. শাহ আলম শিকদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলামের (২২) সঙ্গে। পরে দুই পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু রানী হিন্দু হওয়ায় তাঁকে মেনে নেয়নি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আর মেয়ে মুসলমান ছেলে বিয়ে করায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রানীর মা-বাবা। পরে স্থানীয় সালিস বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এরপর রানী ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন জানালে তাঁকে মেনে নেয় সাইদুলের পরিবার। ধর্মান্তরিত রানীর নতুন নাম দেওয়া হয় খাদিজা আক্তার। এর পর থেকে ছোনবুনিয়া গ্রামে সাইদুলের পরিবারের সঙ্গে বাস করছিলেন খাদিজা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাইদুলের এক প্রতিবেশী জানান, আত্মীয়রা কাছে না থাকায় প্রায়ই খাদিজাকে মারধর করত সাইদুল ও তার স্বজনরা। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও খাদিজাকে মানসিক নির্যাতন করা হতো। সাইদুল-খাদিজার ঘরে দেড় বছর বয়সী সাবিত নামের একটি ছেলে রয়েছে।

বরগুনা সদর থানার ওসি মো. রিয়াজ হোসেন জানান, একটি সাধারণ ডায়েরি করে মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খাদিজার (রানী) মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, এটি হত্যা, না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাবে লাশের ময়নাতদন্তের পর। খাদিজার মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


মন্তব্য