kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্ষণের সাত মাস পর থানায় মামলা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ধর্ষণের সাত মাস পর গত রবিবার কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় গিয়ে মামলা করেছে মেয়েটি। এরই মধ্যে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে।

তাকে নিয়ে গ্রাম্য সালিসে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে বিয়ে ও তালাকের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

গত রবিবার এ ঘটনা নিয়ে কালের কণ্ঠ’র প্রিয় দেশ পাতায় ‘দশ বছরের মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবরটি পড়ে থানার ওসি গাড়ি পাঠিয়ে মা-মেয়েকে থানায় ডেকে আনেন। বিকেলে মাকে বাদী করে একটি মামলা নেন। একই সময় প্রধান আসামি মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মেয়েটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার কবি নজরুল মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মেয়ের পরিবারকে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করবে মুরাদনগর থানা। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় মেয়েটি বাচ্চা প্রসবের পর শিশুটির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা সার্বিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে যারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ ঘোষণা করেন, ‘আমি মেয়েটির আগামী এক বছরের ভরণপোষণের খরচ বহন করব। ’

মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু বলেন, ‘আমরা মেয়েটির পাশে আছি। ’

সদ্য যোগদানকারী মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন মেয়েটি ও তার পরিবারের পাশে থাকবে। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা যারা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

উল্লেখ্য, রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে (১০) যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ নিয়ে সালিসে অভিযুক্ত যুবক মো. হেলালের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। প্রসবের পর সন্তানটি হেলাল নিয়ে যাবে এবং মেয়েটিকে তালাক দেবে। বিনিময়ে মেয়েটি পাবে দুই লাখ টাকা। ইউপি সদস্য রব মিয়ার নেতৃত্বে ওই সালিস হয়েছিল।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জজ কোর্টের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সৈয়দ তানবির আহমেদ ফয়ছাল বলেন, ‘যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের ঘটনা গ্রাম্য সালিসে সমাধান দেওয়ার বিষয় না। যারা এ ধরনের বিষয় ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তারা ওই ঘটনার সহযোগী হিসেবে গণ্য হতে পারে। ঘটনা তদন্তকালীন এজাহারে তাদের নাম দেওয়া যেতে পারে। ’

মুরাদনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘যারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় এনেছি। তাঁরা শিগগির গ্রেপ্তার হবেন। ’


মন্তব্য