kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সম্মেলনের ২২ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সভাপতি মমতাজের ভক্তরা পদ বাগাল

বগুড়া আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সভাপতি মমতাজের ভক্তরা পদ বাগাল

সম্মেলনের ২২ মাস পর নতুন করে আরো তিন বছরের জন্য বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকালে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

একই সঙ্গে ২১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এর আগে গত ১২ অক্টোবর দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই কমিটি অনুমোদন দেন। শেখ হাসিনার স্বাক্ষরসংবলিত এই চিঠিটি গত ১৩ অক্টোবর দলের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বগুড়া জেলা কমিটির কাছে পাঠান।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই অভিযোগ উঠেছে জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের আস্থাভাজন এবং অনুগতরাই জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থান পেয়েছেন। এ ব্যাপারে দলের মধ্যে প্রকাশ্য কেউ মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে চলছে মন কষাকষি। অনেকে অভিমানে দলের কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব নেতাকর্মী সভাপতির নিজস্ব লোক তাঁদেরই শুধু মূল পদে দেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা তাঁর বিরোধী তাঁদের মূল্যায়নের পরিবর্তে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আগের কমিটির পদের চাইতে নিচের সারিতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এমন অনেক ত্যাগী নেতা রয়েছেন যাঁদের কমিটিতে রাখাই হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে সভাপতি পদে মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক পদে মজিবুর রহমান মজনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা, মঞ্জুরুল আলম মোহনের নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলন শেষ হওয়ার ২২ মাস পর এই কমিটি ঘোষণা করা হলো। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই কমিটির কার্যক্রম বলবৎ থাকবে।

গত কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীতে থাকলেও এবারের কমিটিতে স্থান পাননি সাবেক মন্ত্রী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফ্ফর রহমান ও শহিদুল আলম দুদুর মতো অনেকেই। আবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রদীপ কুমার রায়কে এবারও সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে। আগের দফায়ও তিনি একই পদে ছিলেন। এ পদে নতুন আরো দুই মুখ হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুর রহমান দুলু এবং সাবেক কমিটির প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার আরিফ ওপেল। এ ছাড়া দলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে রাখা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুলতান মাহমুদ খান রনি, আল রাজি জুয়েল ও মাশরাফি হিরোকে। জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, এরা সবাই জেলা সভাপতির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তবে দলে নতুন মুখ তরুণ হওয়ায় এ তিনজনকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশ করা হবে না এমন শর্তে এক নেতা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অনেক ত্যাগী নেতার স্থান হয়নি। অথচ শুধু তাঁর (সভাপতির) পছন্দের লোক ও আস্থাভাজন হওয়ার কারণে অনেকেই রাতারাতি দলে এসে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। সভাপতির পছন্দের লোক হওয়ায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মূল দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা দলের প্রাথমিক সদস্য না হয়েও রাতারাতি দপ্তর ও প্রচার সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ পেয়েছেন। অথচ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতার ওয়ার্ড কমিটির সদস্য পদেও জায়গা হয়নি। আগের কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহাদৎ আলম ঝুনুর পদাবনতি করে নতুন কমিটিতে তাঁকে করা হয়েছে শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ দলের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান থাকেন জেলা শহরের বাইরে শেরপুর উপজেলায়। গুরুত্ব বুঝে মাঝেমধ্যে দলীয় কর্মসূচিতে আসেন তিনি। তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককেও দলীয় সব কর্মসূচিতে একসঙ্গে দেখা যায় না। একজন উপস্থিত থাকলে দুজনই অনুপস্থিত থাকেন।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান বলেন, সম্মেলনের পর জেলা সভাপতির শারীরিক অসুস্থতা, একের পর এক স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অনেক পদপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বাছাই করতে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দেরি হয়েছে। তবে এখন দল চাঙ্গা হবে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, মাঠের পরীক্ষিত ত্যাগী ও তরুণ নেতাদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। সেটি অনুমোদন মিলেছে। এতে রয়েছে সহযোগী সংগঠন থেকে আসা তরুণ নেতৃত্বেরও জয়জয়কার। নবীন-প্রবীণ নেতৃত্বের মিশেলে গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি অন্য সব সময়ের চেয়ে অনেক ভালো ও শক্তিশালী হবে।


মন্তব্য