kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৪২০ নম্বর কক্ষে ছিল ফোরটোয়েন্টির বাস

তানজিদ বসুনিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



৪২০ নম্বর কক্ষে ছিল ফোরটোয়েন্টির বাস

জাফর ওরফে মিরাজ

১৮৬০ সালে তৈরি দণ্ডবিধির ৪২০ নম্বর ধারায় প্রতারণা ও অসততার বিষয়টি যুক্ত হয়েছিল। কালে কালে ৪২০ সংখ্যাটিই হয়ে দাঁড়ায় প্রতারকের প্রতিশব্দ হিসেবে।

এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ৪২০ নম্বর কক্ষে এক যুবকের সন্ধান মিলেছে। যিনি ছাত্র পরিচয়ে ওই কক্ষে চার বছর ধরে বাস করছেন। আদতে তিনি জাবি ছাত্র নন।

যুবকের নাম মো. জাফর ওরফে মিরাজ। তিনি ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র দাবি করতেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই নামে কোনো শিক্ষার্থীকে ওই হলে আসন বরাদ্দ দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কক্ষের বাসিন্দা বলেন, ‘ছেলেটি দেখতে সহজ-সরল ছিল। তাকে কোনো দিন আমরা সন্দেহ করিনি। তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানারও চেষ্টা করিনি। ’ এখন তাঁর ছাত্রত্ব ফাঁস হওয়ায় তিনি বলেন, ‘না জানি কী অঘটন ঘটানোর জন্য সে হলে থাকত?’

ওই হলের বাসিন্দারা জানায়, মিরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের (৪১ ব্যাচে) ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে ২০১২ সাল থেকে হলে অবস্থান করছেন। ওই বর্ষে হলটিতে ওই বিভাগের কোনো আসন বরাদ্দ ছিল না। তাই হলের সহপাঠীরা বিষয়টি আমলে নেয়নি। কিন্তু পরের বছর ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে (৪২ ব্যাচ) হলটিতে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন মো. শাহীন। তিনি হলে ওঠার পর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁরই বিভাগের এক বড় ভাই হলে রয়েছেন। বিভাগের বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে যান তিনি। এ সময় মিরাজ অ্যাকাউন্টিং বিভাগের পরিবর্তে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন। এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে কিছু প্রশ্ন করেন শাহীন। প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে না পারায় সন্দেহ আরো বাড়ে। পরে ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে ওই যুবকের জালিয়াতি ধরা পড়ে।

মো. শাহীন বলেন, ‘দুই বিভাগে খবর নিয়ে যখন তাঁর পরিচয় পেলাম না, তখন আমার মধ্যে সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। খবর নিয়ে নিশ্চিত হই, তিনি ওই দুই বিভাগের ছাত্র না। ’ প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে শুক্রবার রাতে হল থেকে পালিয়ে গেছেন মিরাজ।

এদিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ৪১ ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, মো. জাফর ওরফে মিরাজ নামে তাদের কোনো সহপাঠী নেই। ওই যুবকের ছবি দেখালেও তারা তাঁকে চেনে না বলে জানায়। গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি মো. আউয়াল আল কবির এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. মো. সালাহউদ্দিন রাজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মো. জাফর ওরফে মিরাজ নামে কোনো শিক্ষার্থী নেই বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য মো. জাফর ওরফে মিরাজের ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে তাঁর বাড়ি বরিশাল লেখা হলেও বিস্তারিত কিছু লেখা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় বা হলের কোথাও তাঁর ঠিকানা পাওয়া যায়নি। মিথ্যা পরিচয়ে যুবকের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট এ এইচ এম সা’দাত্ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সে কারো প্রশ্রয়ে হলে থেকেছে। এটা আমাদের গোচরীভূত না। আর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমরা হলের রুমে রুমে গিয়ে চেক করতে পারি না। সর্বোপরি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। ’


মন্তব্য