kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

সাভারে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার সাভার পৌর এলাকার ডগোরমোড়া সিআরপি রোডে ডানা বটমস লিমিটেডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকালে ডানা বটমস লিমিটেডের তিন শতাধিক শ্রমিক বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে কারখানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে বিক্ষোভ করতে করতে সাভারের শিমুলতলা এলাকায় গিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ শ্রমিকদের লাঠিপেটা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে একপর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। লাঠিপেটা ও রাবার বুলেটে অন্তত ২০ জন পোশাক শ্রমিক আহত হয়। পরে অন্য শ্রমিকরা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে, গত ঈদের আগে মালিকপক্ষ কারখানার সব লাইন (সাতটি) চালু করার লক্ষ্যে কারখানা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি শুরু হওয়ার কথা ঈদের পর। এদিকে কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক এইচআর অ্যাডমিন অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স এ কে এম আরিফুজ্জামান একটি নোটিশে জানান, কারখানার উৎপাদন চালু রেখে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংস্কারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারখানার সব কাজ বন্ধ রাখা হবে। এ হিসাবে ১৬ অক্টোবর (গতকাল) কারখানাটি খোলার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি ও মেশিনপত্র না দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

অনেক শ্রমিক জানায়, কারখানার বর্তমান মালিক অন্য মালিকের কাছে কারখানাটি হস্তান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শ্রমিকরা অন্য মালিকের কাছে কাজ করবে না জানিয়ে বিক্ষোভ করে।

শিল্প পুলিশ-১ সাভার-আশুলিয়া জোনের পরিচালক পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে বিক্ষোভ করেছে। তবে তারা পুলিশের উপস্থিতির কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করতে পারেনি। তিনি লাঠিপেটা, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও শ্রমিক আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার লিমা ও সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু এক যৌথ বিবৃতিতে ডানা পোশাক কারখানা না খুলে কর্তৃপক্ষ ও মেশিনপত্র উধাও হওয়া এবং প্রতিবাদকারী শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও রাবার বুলেট ছোড়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নেতারা অবিলম্বে কারখানা খুলে দেওয়া এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসাভার কারখানার মালিকপক্ষকে নেওয়ার আহ্বান জানান।

নেতারা জানান, ডানা গার্মেন্ট ২০১৪ সালে চালু হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ ও সংস্কারকাজের দোহাই দিয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে। গত মাসে চলতি মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতনও পরিশোধ করে। সংস্কারকাজের দোহাই দিলেও শ্রমিক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ও স্থানীয় মাস্তানদের ঝুট ব্যবসাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বই কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ। কারখানাটি খোলা অবস্থায় ঝুট কে বা কোন গ্রুপ নামাবে—এই বিরোধে অস্ত্র নিয়ে কারখানার সামনে স্থানীয় মাস্তানদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে।

শাবানা নামের এক শ্রমিকের মাথায় রাবার বুলেট লাগলে সিআরপি হাসপাতালে তাঁর মাথা থেকে স্প্লিন্টার অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানান এবং  ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নেতারা বলেন, শ্রমিকদের না জানিয়ে, কারখানা পরিদর্শক বরাবর কোনো তথ্য না দিয়ে মালিকপক্ষ এভাবে উধাও হতে পারে না। মালামাল সরাতে পারে না। কারখানা খোলার দিন কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি ও মালামাল সরিয়ে ফেলা কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারার শামিল।

নেতারা বিবৃতিতে অবিলম্বে কারখানাটি খুলে দেওয়ার দাবি করেন। অন্যথায় শ্রম আইন অনুযায়ী দুই বছর কাজ করা সব শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানান।

 


মন্তব্য