kalerkantho


শরীয়তপুরে চোর সন্দেহে হত্যা

সাভারে ২৪ ঘণ্টায় মিলল নারীসহ চারজনের লাশ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শরীয়তপুরে চোর সন্দেহে হত্যা

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোনসেট চুরির অভিযোগে এক রং মিস্ত্রিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

সাভারের আলাদা স্থানে গতকাল রবিবার নারী পোশাক শ্রমিকসহ চারজনের লাশ পাওয়া গেছে। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদী থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এবং মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ পুলিশ। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

শরীয়তপুর : গোসাইরহাট উপজেলা সদরে মোবাইল ফোনসেট চুরির অভিযোগে ফিরোজ সরদার নামের এক রং মিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার ভোরে সুমাইয়া আবাসিক হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, হোটেল মালিক উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সালাম পেদা ফিরোজকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সালাম পলাতক। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর ছেলে বাপ্পী পেদাকে আটক করেছে। ফিরোজ উপজেলার মিত্রসেনপট্টি গ্রামের সবুজ সরদার ও মাহমুদা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে ছিলেন। পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল ভোরে ফিরোজকে ওই হোটেলের সামনে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে পেটানো হয়। হোটেল মালিক সালাম পেদা ফিরোজকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ফিরোজকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হোটেল মালিক পলাতক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর ছেলে বাপ্পী পেদাকে আটক করা হয়েছে। ফিরোজের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। গোসাইরহাট থানার ওসি মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি গণপিটুনি, নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিল তারা সবাই পলাতক।

সাভার (ঢাকা) : সাভার উপজেলার আলাদা স্থান থেকে গতকাল রবিবার এক নারী পোশাক শ্রমিকসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ চারটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় আলাদা চারটি মামলা হয়েছে। গতকাল হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে এর নৈশপ্রহরী মো. হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গ্যারেজে থাকা বিদ্যুতের তার থেকে স্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে পুলিশের ধারণা। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অজ্ঞাতপরিচয় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে বউবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া গেছে সেলিনা নামের এক পোশাক শ্রমিকের লাশ। পারিবারিক কলহের জেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেলিনা রকিবুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া শ্যামলাশীতে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া একটি জমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় আরো একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গি ও গেঞ্জি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : ফতুল্লা লঞ্চঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে গতকাল রবিবার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (৩০) গলিত লাশ উদ্ধার করেছে হাসনাবাদ নৌ পুলিশ। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছে। হাসনাবাদ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সামসুল আলম জানান, যুবকের পরনে জিন্সের প্যান্ট ও কালো রঙের শার্ট ছিল।

মুন্সীগঞ্জ : শহরের মুক্তারপুরে ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (৩০) গলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মন্তব্য