kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লোকসানের শঙ্কায় হাত গুটিয়ে পাম্প মালিকরা

উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দাম কমানোর ঘোষণার পর লোকসানের ভয়ে পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় তেল না নেওয়ায় বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে আসছে।

শুধু তা-ই নয়, তেল সংকটে আসন্ন শীত মৌসুমের জন্য আগাম চাষ করা সবজি ও আলুচাষিরাও বিপাকে পড়েছে। তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছে না কৃষকরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে (বিপিসি) জ্বালানি তেল সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ডিজেলের চাহিদা থাকে গড়ে দুই লাখ লিটার, পেট্রল ৮০ হাজার থেকে এক লাখ এবং অকটেনের চাহিদা ২০ হাজার লিটার। তবে নভেম্বরেই এই চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়। কারণ এ সময় ফসল উত্পাদনের ভরা মৌসুম। এ সময় সেচের জন্য অতিরিক্ত তেলের প্রয়োজন হয়। অথচ উত্তরাঞ্চলের তেলের পাম্পগুলোর মালিকরা লোকসানের আশঙ্কায় তেল না তোলায় এ অঞ্চলের কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার কারণে পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে তেল নিচ্ছেন না। অথচ ডিপোতে প্রচুর পরিমাণে তেলের মজুদ রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি এম এ মোমিন দুলাল জানান, তাঁদের সমিতির হিসাব অনুযায়ী ১৬ জেলায় পেট্রল পাম্প রয়েছে ৪৫০টি। এর মধ্যে বগুড়াতেই রয়েছে ৩৬টি। এই মৌসুমে বগুড়ায় প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ৬০ হাজার লিটার, পেট্রল ১৫ হাজার এবং অকটেন ১৫ হাজার লিটার। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে কোনো তেল নেই। যাঁদের অল্প কিছু তেল ছিল তাঁরা কোনো রকমে পাম্প চালু রেখেছেন। আর যাঁদের তেল নেই, তাঁরা কালো কাপড় দিয়ে পাম্পের মেশিনগুলো বন্ধ রেখেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাম্প মালিকরা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিলেন। কারণ তখন তাঁদের প্রত্যেকের পাম্পেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেলের মজুদ ছিল। মালিকরা অভিযোগ করে বলেছেন, জ্বালানিসচিব মূল্য নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারির পর তা কার্যকর করার জন্য পাম্প মালিকরা তিন দিন সময় চেয়েও পাননি। এ কারণে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তাই এবার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে জন্য ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা তেল কিনছেন না।

জানা গেছে, এক কোটি ১১ লাখ লিটার (ডিজেল) ধারণক্ষমতার পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলায় প্রায় ১৫০ জন ডিলার এবং ২২৫ জন এজেন্টের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে পার্বতীপুরের এ ডিপোতে তেলের যথেষ্ট মজুদ থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে না। চিলমারী ডিপোতে প্রায় সাত লাখ লিটার তেল মজুদ রয়েছে।


মন্তব্য