kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন

দেশজুড়ে উৎসব

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেশজুড়ে উৎসব

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। এ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের আশপাশ সেজেছে অপরূপ সাজে। তৈরি করা হয়েছে রংবেরঙের নৌকা। ছবিটি গত শুক্রবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানী ঢাকায় আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী এবং এ উপলক্ষে রাজধানীমুখী দলটির নেতকর্মীরা রয়েছে আনন্দ উত্তেজনায়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চট্টগ্রাম : সম্মেলন উপলক্ষে বন্দর নগরী থেকে আড়াই হাজারের বেশি নেতাকর্মী যাচ্ছে ঢাকায়। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে বেশির ভাগ যাবে ২১ অক্টোবর রাতে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী যাচ্ছে ট্রেনে। বাকিদের বেশির ভাগ যাচ্ছে সড়কপথে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিমানে যাওয়ার কথা রয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, থানা, পৌরসভা, উপজেলা, ওয়ার্ড এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্মেলনে যোগ দেবে। তাদের যাতায়াতের জন্য গতকাল রবিবার পূর্বাঞ্চল রেলে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ১৫টি বগির বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২১ অক্টোবর রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের ছয়টি শোভন চেয়ার বগি এবং একটি বার্থ কেবিন এবং রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনে চারটি শোভন চেয়ার বগি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেল ভবনের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে থেকে গতকাল পর্যন্ত এ ১১টি বগি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘আগামী ২০ ও ২১ অক্টোবরের জন্য অনেক বাস বুকিং হয়ে গেছে। ’

রাজশাহী : সম্মেলন উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় সাজানো হয়েছে। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। এ ছাড়া সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করা হয়েছে। দলের কাউন্সিলরদের নির্বিঘ্নে ঢাকা পৌঁছানোর জন্য ট্রেনের বগি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এবং বাসে করে ঢাকায় রওনা দেবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসব বিরাজ করছে। এই সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা। আশা করছি, রাজশাহীর মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবেন দলীয় সভানেত্রী। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজশাহীর নেতারা ঠাঁই পাবেন। ’

বরিশাল : জেলা ও মহানগর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগদান করবেন। এ নিয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজালুল করিম জানান, বরিশাল বিভাগের ১০ জেলা থেকে ৯৭ জন কাউন্সিলর ও প্রায় চার হাজার নেতাকর্মী এবং মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডের ১৭ জন কাউন্সিলর ও এক হাজার নেতাকর্মী সম্মেলনে যোগদান করবে। নেতাকর্মীরা লঞ্চযোগে ঢাকায় যাবে।

খুলনা : জেলা ও মহানগর শাখা থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ঢাকায় যাবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি উপজেলা থেকে গাড়িতে করে ২১ অক্টোবর সকালে নেতাকর্মীরা খুলনা শহরে আসবে। এর পর সবাই একসঙ্গে ঢাকার দিকে যাত্রা করবে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনার রশিদ বলেন, ‘জেলায় ৭৬ জন কাউন্সিলর ও ২২৮ জন ডেলিগেট রয়েছেন। এর বাইরে কেউ অংশ নিতে পারবে না। ’ অন্যদিকে দলের খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম সোহাগ বলেন, ‘মহানগরে কাউন্সিলরের সংখ্যা ৬৮ আর ডেলিগেটের সংখ্যা ১৩৫ জন। ’

রংপুর : সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে রংপুরের নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্য রকম উৎসাহ দেখা দিয়েছে। কারণ, এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় রংপুরের কাউন্সিলর হিসেবে সমাবেশে যোগ দেবেন। ২০১৫ সালে জয় পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নির্বাচিত হন। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম রাজু বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলা থেকে তিনটি ও জেলা থেকে পাঁচটি করে বাস কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের নিয়ে ঢাকায় যাবে। রংপুর থেকে দলের নেতাকর্মীদের বহন করতে একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়ছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক লোক যাবে। ’

সিলেট : সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে টানানো হচ্ছে বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টার। ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। আজ সোমবার মহানগর আওয়ামী লীগ এবং আগামীকাল মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগ নগরে প্রচার মিছিল বের করবে। সিলেট থেকে শতাধিক কাউন্সিলর ও এক হাজার ৩০০ ডেলিগেট সম্মেলনে যোগ দেবেন। সিলেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ট্রেন ও গাড়ি বুকিং দেওয়া হয়েছে। থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ’ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘সম্মেলনের প্রচারের জন্য ২৭টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ চলছে। ’

ময়মনসিংহ : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন হওয়ায় তিন ঘণ্টায় পৌঁছানোর আশা করছে নেতাকর্মীরা। তাই তারা বাসযোগে রওনা দেবে। এ ছাড়া একাধিক নেতা ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকায় যাবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় পৃথকভাবে প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। তবে কতজন যাবে তার হিসাব এখনো আমার কাছে পৌঁছেনি। ’

যশোর : জেলা থেকে ১২১ কাউন্সিলর ও ৩৬৩ জন ডেলিগেট অংশ নেবেন। আট উপজেলা থেকে দুটি করে বাসে কর্মী-সমর্থকরা সম্মেলনে যাবে।


মন্তব্য