kalerkantho


হাতি আতঙ্ক

বিকেল হলেই ঘর ছাড়ছে গ্রামবাসী

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সীমান্তবর্তী কাংশা ইউনিয়নের হাতি উপদ্রুত এলাকার পাঁচ গ্রামের মানুষ এখন বিকেল হলেই ঘরবাড়ী ছেড়ে আসবাবপত্র-গৃহপালিত পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটে। দিনের বেলায় লোকজন এলাকায় থাকলেও রাতে কেউই আর বাড়িঘরে থাকছে না। পানবর, দুধনই, ছোটগজনী, তাওয়াকুচা, বাকাকুড়া এসব এলাকায় এখন সন্ধ্যা নামে হাতি আতঙ্কে। সরেজমিনে রবিবার দুপুরে এসব এলাকায় গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

এদিকে বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জরুরি একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ডা. এ এম পারভেজ রহিম জানিয়েছেন, হাতি উপদ্রুত এলাকার বিস্তারিত ঘটনাবলি তুলে ধরে রবিবার দুপুরে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, বন্য হাতির দল যাতে নিরাপদে তাদের আবাসস্থলে বিচরণ করতে পারে এ জন্য ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দেওয়ার জন্য ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার ডিসির সঙ্গে শনিবার রাতে কথা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁকে আশ্বস্ত করেছে। এ ছাড়া, ত্রাণ মন্ত্রণায়ের সচিব মহোদয় বন্য হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলেও ডিসি উল্লেখ করেন। রবিবার বিকেলে পুলিশ সুপার ও ইউএনওসহ জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম কাংশা ইউনিয়নের হাতি উপদ্রুত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত গত পাঁচ দিনে ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নে দুই মহিলাসহ পাঁচজন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত হন।

 


মন্তব্য