kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নান্দাইলে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ঈশ্বরগঞ্জে ডিলারকে সতর্ক

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নান্দাইলে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ঈশ্বরগঞ্জে ডিলারকে সতর্ক

অতিদরিদ্রদের মধ্যে বিক্রির জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ১০ টাকা কেজি দরের চালের ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্তও হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জে ডিলারদের ডেকে সতর্ক করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ইউএফসি) মো. আলাউদ্দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সে জন্য সব ডিলারকে ডেকে এনে সভা করে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নান্দাইলে বাতিল হওয়া ২৪ জন ডিলারকে নিয়োগে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল তা নিয়ে গত শনিবার একটি তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা খাদ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কর্মকর্তারা নান্দাইলে এসে তদন্ত করেন। এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ইউএফসি) মো. আলাউদ্দিন তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। তিনি বলেন, নান্দাইলে নতুন করে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে নতুন করে কর্মসূচি চালু করা হবে।

এদিকে গত শনিবার রাতে ঈশ্বরগঞ্জে ২০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করার সময় জনতার হাতে আটকের পরও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, খাদ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাটি জানলেও একে-অন্যের ওপর দায়িত্ব দিয়েই দায় সেরেছেন।

জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের পাটমহালে সারোয়ারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ওই ২০ বস্তা চাল মজুদ রয়েছে। ডিলার আবুল হাসেম মেম্বারের দোকান থেকে এসব চাল বের করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে ডিলার হাসেম চালগুলো তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সারোয়ার জানান, তিনি ফড়িয়াদের কাছ থেকে সুলভ মূল্যে চালগুলো কিনেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, তিনি খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান; কিন্তু কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর ঈশ্বরগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দুই দিন ঠিকমতো চাল বিক্রি করা হলেও ১১ অক্টোবর মগটুলা ও রাজীবপুর ইউনিয়নের একাধিক ডিলারের দোকানে চাল পাওয়া যায়নি। মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর বাজারের ডিলার মো. শাহজাহান কবীর বলেন, তিনি তাঁর বরাদ্দের অর্ধেক চাল তুলেছেন। তাই অর্ধেক কার্ডধারী চাল কিনতে পেরেছে। বাকি চাল তোলার পর অন্য কার্ডধারীরা নিতে পারবে। অন্যদিকে রাজীবপুর ইউনিয়নের সাহাগঞ্জ বাজারের ডিলার আবদুল মালেক ওরফে বাদল মেম্বারের দোকানে গিয়েও চাল পাওয়া যায়নি। তবে আবদুল মালেক বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী চাল বিক্রি করেছি। শেষ হলে কী করব?’


মন্তব্য