kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন

পাঁচ প্রার্থীকে এমপির হুমকি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে কয়েকজন প্রার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাঁর হুমকির পর নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা এবং এমপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

গতকাল রবিবার অভিভাবক সদস্য পদের পাঁচ প্রার্থী এ আবেদন করেন।

জানা গেছে, কাল মঙ্গলবার রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচটি পদের বিপরীতে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান।

সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলছিল। কিন্তু গত শনিবার এমপি মাহাবুবুর রহমান তাঁর মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার জন্য রাঙ্গাবালী যান। এ সময় তিনি তাঁর মনোনীত প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভূঁইয়া মো. ফরিদ, মো. জাফর সরদার, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. ওদুদ মল্লিক ও রেবা বেগমকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলেন। সরে না গেলে নির্বাচনের পর তাঁদের পস্তাতে হবে—এমন হুমকি দেন বলে এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ।

এ ছাড়া তিনি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন হুমকি পাওয়া প্রার্থীরা। এসব কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অতিরিক্ত পুলিশ দাবি করেছেন আতঙ্কিত প্রার্থীরা।

এ ব্যাপারে ভূঁইয়া মো. ফরিদ বলেন, ‘একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এ জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। ভোটের দিন অতিরিক্ত পুলিশ ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মঙ্গল হবে। এমপি সাহেব বিভিন্ন লোক দ্বারা আমাদের ভয়ভীতিসহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি কিছুই করতে পারবেন না, যদি প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ’

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুজ্জামান মামুন খান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি ওই স্কুলের অভিভাবকরা ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য ভোট দিতে চান। কিন্তু এমপি (মাহাবুবুর রহমান) সাহেব এটা চান না। তিনি ১৫ অক্টোবর এলাকায় এসে নির্বাচনে নানামুখী তত্পরতা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং শিক্ষকদের গালমন্দ করেছেন। পরিবেশটা সম্পূর্ণ নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। ’

রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক বলেন, ‘শিডিউল অনুযায়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এখানে আমার করার কিছুই ছিল না, তার পরও ভোটের প্রক্রিয়া হওয়ায় তিনি (এমপি) আমাকে গালমন্দ করেছেন। এমপি সাহেব আসার পর থেকে পরিবেশটা কিছুটা নাজুক হয়ে পড়েছে। তিনি কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরিবেশটাকে নষ্ট করছেন। তবে অভিভাবকরা ভোট চান। ’  

অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি কাউকে ভয়ভীতি কিংবা হুমকি দিয়েছি, এটা একেবারেই সঠিক না। হেডমাস্টার ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বলেছি, সব জায়গায় নির্বাচন খাটে না। নির্বাচন হলে স্কুলটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, মামলা-মোকদ্দমা হতে পারে। তার চেয়ে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের ঝামেলাটা মিটানোর জন্য। আমি প্রতিষ্ঠানের ভালো চাই, এ কারণেই এ কথা বলেছি। ’


মন্তব্য