kalerkantho


ইলিশ নিষেধাজ্ঞা

১৩১ জনের জেল-জরিমানা

পোড়ানো হলো বিপুল জাল, ইলিশ জব্দ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১৩১ জনের জেল-জরিমানা

মা ইলিশ ধরার অপরাধে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে গত শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ১৭ জন জেলেকে। পরে তাদের এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি : কালের কণ্ঠ

মা ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। এর মধ্যেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাল ফেলে ইলিশ ধরছে এক শ্রেণির জেলে।

শনিবার রাত ও গতকাল রবিবার বিভিন্ন জেলায় ইলিশ ধরার সময় আটক ৮৯ জনকে কারাদণ্ড ও ৪২ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ইলিশগুলো বিতরণ করা হয় মাদ্রাসা ও এতিখানায়। এসব অভিযানে অংশ নেয় পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মত্স্য বিভাগ।

ফরিদপুর : ফরিদপুর সদরের পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরায় ৯ জেলেকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ মল্লিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার রাতে ডিক্রিরচর ও চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে এ অভিযানকালে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের ২০টি কারেন্ট জাল জব্দ করে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, পোড়ানো হয় ১০ কেজি কারেন্ট জাল।

ঝালকাঠি : নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে গতকাল মা ইলিশ ধরার সময় আটক তিন জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছর করে সশ্রম করাদণ্ড দেন। জব্দ করেন ১২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০ কেজি ইলিশ। আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও শাহ মো. কামরুল হুদা।

দণ্ডিতরা হলেন ভৈরবপাশা ইউনিয়নের চর ষাইটপাকিয়া গ্রামের গৌতম চন্দ্র মণ্ডল, মনিরুল ইসলাম ও মো. জহির।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : পদ্মা নদীতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে গতকাল ১৭ জেলেকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন গোয়ালন্দের ইউএনও পঙ্কজ ঘোষের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মহসিন মিয়া জানান, শনিবার রাতে উপজেলা প্রশাসন, মত্স্য বিভাগ ও নৌপুলিশের ওই যৌথ অভিযানে এক লাখ পাঁচ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও পাঁচ মণ মা ইলিশ জব্দ করা হয়।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী ও পাংশার মত্স্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩৪ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৬০ কেজি ডিমওয়ালা ইলিশ উদ্ধার এবং ৪০ জেলেকে আটক করেন। গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজবাড়ী সদরের আটক ৩৬ জনকে এক মাস করে এবং পাংশার চারজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন। সদর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, শনিবার রাত থেকে গতকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত ওই অভিযান চালানো হয়।

চাঁদপুর : গতকাল ভোর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার এখলাসপুর, মোহনপুর ও ষাটনল এলাকায় জেলা টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে মতলব উত্তরের জেলে হাসান আলী ও শরীফুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জের ফারুক হোসেন, মো. জয়নাল, রাসেল মিয়া, সালাহউদ্দিন ও রুবেল হোসেনকে আটক এবং ১৭ হাজার ১০০ মিটার জাল জব্দ করে। পরে প্রথম পাঁচজনকে দুই বছর করে ও অন্য দুজনকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মানিকগঞ্জ : শনিবার রাতে শিবালয়ের নদী থেকে ইলিশ ধরার সময় আট জেলেকে আটক করে সাতজনকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদের ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

পাবনা (আঞ্চলিক) : বেড়া উপজেলার সিদ্দিক বাজার ও মালদা বাজারে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি ইলিশসহ দুই মাছ ব্যবসায়ীকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও সামসুন নাহার সুমী। পরে তাঁদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন তিনি। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজধরদিয়া গ্রামের জেলাল মণ্ডল ও ওমরপুর গ্রামের লতিফ ব্যাপারী।

মাদারীপুর : কালকিনির আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে আট হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ এবং পাঁচ জেলেকে সাত হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল ভোরে উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামারপোল ও খাসেরহাটের নদে এ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শরিফুল ইসলাম আদালত পরিচালনা করেন।

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : শনিবার রাতে দোহারের পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ছয় জেলেকে আটকের পর ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইউএনও কে এম আল-আমিনের নেতৃত্বে অভিযানে ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। সঙ্গে ছিলেন দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এ বি এম জাকারিয়া।

মুন্সীগঞ্জ : লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৩৪ ব্যক্তিকে এক লাখ ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১০ হাজার মিটার জাল ও ৫০ কেজি মা ইলিশ। এর আগে সকালে আটজন ও শনিবার রাতে ২৬ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনা করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শাহীন। তাঁকে সহযোগিতা করেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মত্স্য কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস তালুকদার।


মন্তব্য