kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উল্টো ফেঁসে গেলেন গ্রাম পুলিশ ইয়াসিন

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নানা ছুতোয় বাড়িতে এসে প্রবাসীর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ। সম্প্রতি দেশে আসা ওই মেয়ের বাবা তাতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে ইয়াবার ব্যবসায়ী বানিয়ে জেলে পোরার ফন্দি আঁটেন ওই গ্রাম পুলিশ।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই ফেঁসে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। গত শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হাটশিরা এলাকার গ্রাম পুলিশ ইয়াসিন মিয়া নান্দাইল থানার ওসিকে ফোন করে জানায় যে তাঁর এলাকার এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা করে আসছেন। আজ রাতে ইয়াবাসহ তাঁকে হাতেনাতে ধরা যাবে। এ খবর পেয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি আতাউর রহমান পুলিশ নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকায় যান। ইয়াসিন মিয়াও তখন পুলিশের সঙ্গে ছিলেন।

নান্দাইল থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক সাফায়েত হোসেন জানান, ইয়াসিন মিয়ার কথামতো তাঁরা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজায় কড়া নাড়েন। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে পুলিশ দেখে ভড়কে যান ওই ব্যক্তি। এ সময় ইয়াসিনের কথামতো তাঁর ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তোষক ও বালিশের নিচে ইয়াবা না পাওয়ায় হঠাৎ ইয়াসিন নিজের পকেট থেকে কয়েকটি ইয়াবা সেখানে ছুড়ে মারেন। বিষয়টি তাঁর চোখে পড়লে বাইরে থাকা ওসিকে তিনি ঘটনাটি জানান। পরে তল্লাশি বন্ধ করে ওই প্রবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ইয়াসিনকে আটক করে রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়।

ওই প্রবাসী বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ ইয়াসিন বিভিন্ন ছুঁতোয় প্রতিনিয়ত তাঁর বাড়িতে আসা যাওয়া করে। আর এ সুযোগে তাঁর মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে। তাকে প্রথমে বাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করা হয়। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় ইয়াসিন। কিছুদিনের মধ্যে তিনি (প্রবাসী) আবারও বিদেশে যাবেন। এদিকে ইয়াসিন লোকজনের কাছে বলাবলি করে, বিদেশে যাওয়ার আগেই নাকি তাঁকে লাল দালানের ভাত খাওয়াবেন। ’

পুলিশের হেফাজতে থাকা ইয়াসিন জানান, এক হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিছু ইয়াবা কিনে তিনি ওই প্রবাসীকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন। এটা তাঁর ভুল হয়ে গেছে। এ জন্য তিনি অনুতপ্ত।


মন্তব্য