kalerkantho


ইলিশ নিষেধাজ্ঞা

৩১ জনকে জেল-জরিমানা পোড়ানো হলো জাল

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



৩১ জনকে জেল-জরিমানা পোড়ানো হলো জাল

রাজবাড়ীর পাংশা মৎস্য অফিস গতকাল পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১৫ কেজি মা ইলিশ জব্দ করে। পরে দুটি ইলিশ কাটা হলে পেটে ডিম পাওয়া যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ইলিশ মাছ ধরা চলছেই। প্রশাসনও মা ইলিশ রক্ষায় অব্যাহত রেখেছে অভিযান। ইলিশ ধরা ও মজুদের অপরাধে গত শুক্রবার রাতে ও গতকাল শনিবার বিভিন্ন জেলায় ১০ জনকে কারাদণ্ড ও ২১ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল। প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পটুয়াখালী : বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে গতকাল ছয় জেলেকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুড়িয়ে ফেলা হয় জব্দ করা ৩৫ হাজার মিটার জাল। এর আগে কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই জালসহ ছয়জনক আটক করে। দণ্ডিতরা হলেন বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মো. ফিরোজ হাওলাদার, মো. রাসেল হাওলাদার, মো. আবুল কালাম, মো. দুলাল বেপারী এবং কালাইয়া ইউনিয়নের মো. ইসমাইল হাওলাদার ও সালাম হাওলাদার।

মাদারীপুর : শিবচরের চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ী এলাকার পদ্মা নদীতে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি ইলিশ ও জাটকা এবং দুই হাজার মিটার জাল জব্দ করেন। পরে তিন জেলেকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং ওই জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. ইমরান আহমেদ। অভিযানে সহায়তা করেন শিবচর থানার ওসি মো. জাকির হোসেনসহ মত্স্য বিভাগের একটি দল।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী ও পাংশায় পদ্মা নদীতে গতকাল অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি ডিমওয়ালা ইলিশ ও ২৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ এবং পাঁচ জেলেকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই পাঁচজন হলেন শাহাদত হোসেন, সিদ্দিক মোল্লা, আব্দুল বারেক মণ্ডল, বাচ্চু ও সামাদ মোল্লা। রাজবাড়ীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাদিয়া শাহনাজ খানম আদালত পরিচালনা করেন। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, সদর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দির নেতৃত্বে ও পাংশা উপজেলা মত্স্য অফিসের পক্ষে অভিযান চালানো হয়।

ঝালকাঠি : নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে গতকাল মা ইলিশ ধরার সময় আটক দুই জেলেকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও শাহ মো. কামরুল হুদার ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় জব্দ করা দুই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পরে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নলছিটির মোল্লারহাট ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবু হাওলাদার ও হাসানাত হাওলাদার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন মিনার জানান, মা ইলিশ ধরার সময় পুলিশের সহযোগিতায় ওই দুজনকে আটক করে মৎস্য বিভাগ।

চরফ্যাশন (ভোলা) : চরফ্যাশনের মেঘনায় মাছ ধরার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ জনকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন আদালত পরিচালনা করেন। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো জেলে কামরুল (১২), শামীম (১১), এমরান রাঢ়ী (১৬), তারেক (১৫), ইদ্রিস (১৬), মারুফ (১৬), জাকির (১১), মামুন (১২), রিপন (১৬), হোসেন (১২) ও হানিফ (২২)। তারা উপজেলার চরমাদ্রাজ, সামরাজ ও চরআফজাল গ্রামের বাসিন্দা।

ভোলা : বোরহানউদ্দিনের ইউএনও আ. কুদদুস জানান, গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া সদর উপজেলায় ইলিশ ধরার অভিযোগে পাঁচ জেলেকে আটক ও ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ : লৌহজংয়ের পদ্মায় দুই হাজার মিটার জালসহ আটক এক ব্যক্তি ও শিমুলিয়া ঘাটে মা ইলিশ মজুদের দায়ে দুটি রেস্টুরেন্টকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। লৌহজংয়ের ইউএনও মো. খালেকুজ্জামান আদালত পরিচালনা করেন। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত মো. মুক্তার হোসেনের (২৮) বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ওসিমুদ্দিন মাদবরকান্দি গ্রামে।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : গতকাল সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরায় যাদব চন্দ্র বর্মণ নামের এক ব্যক্তিকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৯ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০০ মিটার টোনা জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত হায়াত শিপলু।


মন্তব্য