kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নড়াইলে বাণিজ্য মেলায় র‌্যাফল ড্র

আন্দোলনের মুখে বন্ধ

নড়াইল প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জনগণের লাগাতার আন্দোলনের চাপে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোপ মাঠের বাণিজ্য মেলার র‌্যাফল ড্র বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে মেলা আয়োজক কমিটির কাছে।

এদিকে গতকাল বেলা ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাফল ড্রর টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় র‌্যাফল ড্র অনুষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হতো। এ টিকিট বিক্রি করে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এলাকার ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ। এর পরপরই চুরি, আত্মহত্যা, পারিবারিক অশান্তি, ধার-দেনাসহ নানা অশান্তি বাড়তে থাকে এলাকায়। বছর না যেতেই গত ১৩ অক্টোবর আবার শুরু হয় বাণিজ্য মেলার নামে র‌্যাফল ড্র, কেবল লাইনে লটারি খেলার সরাসরি সম্প্রচার। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হন নড়াইলের সচেতন নাগরিকরা। তাঁরা গত শুক্রবার জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ করেন। এসব বিক্ষোভে আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লটারির বাক্স ভাঙাসহ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকি দেন।

নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী ইসমাইল হোসেন লিটন বলেন, ‘লোভ (র‌্যাফল ড্র) দিয়ে গরিব জনগণের টাকা পকেটে ভরা আওয়ামী লীগের কোনো পক্ষেরই কাজ হতে পারে না। কিছু লোক দলের ক্ষমতা প্রয়োগ করে গরিবদের টাকা নিজেদের পকেটে আনছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী এ ধরনের লোকদের আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দেওয়া উচিত। ’

নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার ও আন্দোলনের নেতা এস এ মতিন বলেন, ‘সরকার গরিব মানুষকে বাঁচাতে কাজ করছে। প্রলোভনে ফেলে গরিব মানুষের পকেটের টাকা হাতিয়ে নেয় লুটেরারা। এরা দলের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এদের কাছে গরিব মানুষ কোনো বিষয় নয়, টাকা কামানোটাই মূল কথা। প্রশাসন র‌্যাফল ড্র বন্ধ করতে পারলে ভালো। না হলে আমাদেরই মাঠে থেকে বন্ধ করতে হবে। ’

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেলার র‌্যাফল ড্র বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসন শনিবার মেলা আয়োজক কমিটিকে পত্র দিয়েছে। আশা করি কমিটি অননুমোদিত র‌্যাফল ড্র বন্ধ করে দেবে। না হলে ১৬ অক্টোবর (আজ রবিবার) ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, “আমরা ‘হস্ত বস্ত্রশিল্প মেলা’র জন্য অনুমতি দিয়েছি। জনস্বার্থবিরোধী কোনো লটারি কিংবা র‌্যাফল ড্র পরিচালনার অনুমতি দেইনি। তার পরও কিভাবে এটা চালানো হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন র‌্যাফল ড্র বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে। ”

মণিপুরী তাঁত শিল্প ও জামদানি বেনারসি কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও গোপালগঞ্জ হ্যান্ডলুম অ্যাসোসিয়েশনের নামে মাসব্যাপী শুরু হওয়া হস্ত বস্ত্রশিল্প মেলার স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী বলে জানা গেলেও আয়োজক কে বা কারা সে বিষয়টি স্পষ্ট না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘থানা, পুলিশ, প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সব মহলকে ম্যানেজ করেই আমরা মেলা আর র‌্যাফল ড্র চালাচ্ছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়া গেছে। আমরা র‌্যাফল ড্রর সব পরিবহন ফেরত এনেছি। অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ’


মন্তব্য