kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ঘুষের কারবার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘুষের কারবার

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ঘুষের বিনিময়ে কার্ড পেয়েছেন সচ্ছল ব্যক্তিরা। ঘুষ দিতে না পারায় হতদরিদ্র অনেক পরিবার কার্ড পায়নি।

এমনকি জনপ্রতিনিধিরা পরিবারের সদস্যদের নামে কার্ড নিয়ে চাল তুলেছেন। এসব অনিয়ম রোধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে বঞ্চিতরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রেজাউল বিশ্বাস সব কার্ড স্থানীয় আওয়ামী লীগকর্মীদের নামে তালিকাভুক্ত করেন। সচ্ছল প্রতিবেশীসহ তাঁর মায়ের নামে কার্ড ইস্যু করেন। আর যাঁরা টাকা দিতে পারেননি তাঁদের কার্ড দেওয়া হয়নি।

ইউনিয়নের উত্তর ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র জাহানারা বেগম, রোকসানা খাতুন, সমার্তবান বেগম, রওশনারা খাতুন, রুমা খাতুন, নাজমা বেগম, সোনাভান বিবি, সুফিয়া খাতুন, নাসিমা বেগম, হামিদা খাতুন, আবদুল মজিদ, ফতেমা খাতুন জানান, তাঁদের প্রতিটি কার্ডের জন্য ইউপি সদস্য রেজাউলকে জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। তার পরও তাঁদের কার্ড দেওয়া হয়নি। এখন টাকা ফেরত চাইলে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। তাঁরা তাঁদের টাকা ফেরত না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কোহিনুর বেগম এলাকার দুস্থ ও অসহায়দের কাছ থেকে ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করেছেন। দক্ষিণ ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের পঙ্গু আনন্দ চর্মকার টাকা দিতে না পারায় ইউপি সদস্য তাঁর স্বামী মফেজ শেখের নামে কার্ড দিয়ে চাল উত্তোলন করছেন। প্রথম কোটার চাল বিতরণের দিনে ওই স্বামী এলাকার ১৬ জন হতদরিদ্রের চাল তুলে নিয়ে মাছের খাদ্য তৈরি করে ঘেরে ছিটিয়ে দিয়েছেন।

ইউপি সচিব আসাদুল ফারুক বলেন, ‘ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৭৫৮টি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য কোহিনুর বেগম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘স্বামী টাকা খরচ করে আমাকে মেম্বারি পাস করিয়েছেন। মেম্বার না থাকলেও তো তাঁর সঙ্গে ঘর-সংসার করতে হবে। তাই তাঁর কথার বাইরে আমার যাওয়ার উপায় নেই। এখন আইনানুযায়ী যা হবার হবে। ’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ দেওয়ার কথা শুনে ইউপি সদস্য রেজাউল বিশ্বাস গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ, বাড়ি এমনকি মোবাইল ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না।

ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আল মাসুদ বাবু বলেন, ‘কার্ডের বিনিময়ে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় রেজাউল বিশ্বাস ও মফেজ শেখ সম্প্রতি আমার ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমি কলারোয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ’

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য শনিবার উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তাকে জয়নগর ইউনিয়নে পাঠানো হবে। ’


মন্তব্য