kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চকরিয়া

১৫ হাজার টাকা ঘুষে এসআইয়ের ‘নাটক’

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১৫ হাজার টাকা ঘুষে এসআইয়ের ‘নাটক’

আনোয়ার হোসেন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ‘নাটক’ সাজিয়েছেন। ওই উপপরিদর্শক এক চালককে আটক করে মাদক মামলায় আসামি করে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন এসআই আনোয়ার হোসেন। ব্যারিকেড দিয়ে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস (হাইয়েস) থামান তিনি। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে একটি সিটের নিচ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। এরপর মাইক্রোবাসসহ চালককে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ ওই চালককে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে গতকাল শুক্রবার। অথচ এ ঘটনায় কোনো যাত্রীকে আটক করা হয়নি।

আটকের সময় এসআইয়ের সঙ্গে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যখন পুলিশ ওই গাড়ি ব্যারিকেড দিয়ে থামায় তার কিছুক্ষণ আগে একটি মোটর সাইকেলযোগে ঈদগাঁও থেকে দুজন ব্যক্তি এসেছিল। তারা এসআইকে জানায়, চট্ট মেট্রো-চ-১১-৩১৪৯ নম্বর মাইক্রোবাসের তৃতীয় সিটের নিচে একটি পোটলায় কিছু ইয়াবা রাখা আছে। এর পরপরই গাড়িটি খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আসে। ব্যারিকেড দিয়ে নির্দিষ্ট সিটের নিচ থেকে পোটলা উদ্ধার করা হয়। ’

আটক চালকের নাম আবু তাহের (৩১)। তিনি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী গ্রামের মাহবুব উল আলমের ছেলে। মাইক্রোবাসটির মালিক মোজাফফর আহমদ।

কক্সবাজার জেলা হাইয়েস কার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আকবর বলেন, ‘ঈদগাঁওয়ের দুই ব্যক্তি (একজন স্থানীয় মো. আলম) যাত্রীবেশে উঠে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে ওই মাইক্রোবাসের সিটের নিচে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তারা ওই গাড়ি থেকে নেমে আরেকটি মোটরসাইকেলে ওঠে। এ সময় থানার এসআইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে এই তথ্য আদান-প্রদান হয়। পরে তাদের ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে দেখেছি। এমনকি ওই দুজন চকরিয়া থানা এলাকায় ঘোরাফেরা করে। তারা একাধিকবার এসআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। এতে সন্দেহ আরো দানা বাঁধে। পরে বিকাশে ১৫ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। ’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা হাইয়েস কার মালিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না গত ছয় মাস ধরে। এ নিয়ে মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এরই মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মোজাফফর আহমদসহ (আটক মাইক্রোবাসটির মালিক) কয়েকজন যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য অন্যান্য মালিককে সংগঠিত করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বে থাকা অ্যাডহক কমিটির নেতারা বিষয়টি ভালোভাবে না নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। এর অংশ হিসেবে থানা পুলিশকে দিয়ে এক মালিকের গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা হাইয়েস কার শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সেলিম বাবুল বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে থানাকে বারবার বলা হয়েছে, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা পুরোপুরি সাজানো। মূলত অন্য মালিকদের সংগঠিত করার কারণে মোজাফফরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এটি করানো হয়েছে। ’

কক্সবাজার জেলা হাইয়েস কার মালিক সমিতির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন ওরফে ছোটন রাজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন ঘটনা সাজানোর প্রশ্নই আসে না। ’

চকরিয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে সাংবাদিকদের দেখে নেব। ’

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এখানে আমার বলার কিছুই নেই। মাইক্রোবাস থেকে যেহেতু ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, সেহেতু মামলা নেওয়া হয়েছে। যদি মাইক্রোবাস চালক নির্দোষ হন তাহলে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এর আগে নয়। ’ এসআইয়ের লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসআই আনোয়ার হোসেন খুব ভালো অফিসার। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা অবান্তর। ’


মন্তব্য