kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নান্দাইলে পুলিশে চাকরি

‘বিবাহিত’ রুহুলের সবই গেল জলে

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাসিন্দা রুহুল আমীন প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে করে কিছুদিন পর ছেড়ে দেন। সম্প্রতি পুলিশে চাকরিপ্রত্যাশী রুহুল তাঁর আবেদনে বিষয়টি চেপে যান।

সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অবস্থায় নানা জায়গায় টাকা ছিটিয়েও বিবাহিত রুহুলের অবিবাহিত সাজার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে মো. রুহুল আমীন পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। পরে তিনি ডাক্তারি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। গত সপ্তাহে তিনিসহ উপজেলার ২৮ জন কনস্টেবল পদে চাকরি প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন (প্রার্থীর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই) পাঠানোর জন্য জেলা পুলিশ কার্যালয় থেকে নান্দাইল মডেল থানায় নির্দেশ পাঠানো হয়।

সূত্রমতে, তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করতে গিয়ে সামনে আসে চাকরি প্রার্থী রুহুল আমীনের বিয়ের প্রসঙ্গটি (নিয়ম অনুযায়ী বিবাহিত কারো পুলিশে চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ নেই)। এদিকে তাঁকে অবিবাহিত দেখানোর আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যে নামে একটি চক্র। সব প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর একটি সূত্রের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনে এ প্রতিবেদক গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের রুহুল আমীনের বাড়িতে যান। এদিকে একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি চক্রের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় রফা হয়েছিল রুহুলের।

এ ব্যাপারে রুহুল আমীন বলেন, মেয়ের পক্ষের লোকজন তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চার-পাঁচ দিন পরই ছাড়াছাড়ির মাধ্যমে ঘটনাটি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে টাকার বিনিময়ে চাকরির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

তবে পাশের গ্রামের বাসিন্দা ওই মেয়ের বাবা অভিযোগ করেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করেছিল রুহুল আমীন। কিন্তু বিয়ের এক সপ্তাহ পর পরিবারের কথায় রুহুল তাঁর মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন পাঁচ লাখ টাকা কাবিনের কাগজপত্রও গায়েব করে ফেলে। তাঁর মেয়ে এখন ময়মনসিংহের একটি কলেজে লেখাপড়া করছে। বিয়ের ঘটনাটি মেয়ের জীবনে একটি বড় কলঙ্ক হয়ে থাকল।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, রুহুল আমীন বিবাহিত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।


মন্তব্য