kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইসলামপুরে ৩০০ টাকা ঘুষ দাবি

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা করার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্যদের ৩০০ টাকা করে ঘুষ দিতে না পারায় ৩৪ জন হতদরিদ্র গতকাল বৃহস্পতিবারও ১০ টাকা কেজি দরের চাল তুলতে পারেনি। এ কারণে এক মাস ধরে তাদের চাল গুদামে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গেলে ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের করিরতাইর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মজিবর রহমান বলেন, ‘আঙ্গর এলাকার মেম্বার আলী হোসেন ১০ টেহা চালের কার্ডে নাম দিয়া ৩০০ টেহা ঘুষ চাইছিল। অভাবের কেন্নে টেহা দিবের পাই নাই। তাই মেম্বর কার্ড দেয় নাই। ডিলারও চাল দিবার পায় নাই। ’ একই অভিযোগ ওই এলাকার ৮০ বছরের ছমেদ আলী, নোয়ারপাড়ার সোনামুখী গ্রামের তৈয়বর রহমান ও সোলায়মান হকের।

পরে ওই এলাকার ডিলার ছাইদুর রহমানের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগকারী হতদরিদ্র মজিবর রহমান, ছমেদ আলী, তৈয়বর রহমান, সোলায়মান হকসহ ৩৪ জনের নাম খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে। তবে তারা কার্ড দেখাতে না পারায় গুদামে চাল থাকলেও তাদের দেওয়া হয়নি।

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলাররা জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য হতদরিদ্রদের তালিকা করার সময় নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা দুই হাজার ৩৭৬ জন দরিদ্র মানুষের প্রায় সবার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। তাই যারা ঘুষ দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে পারেনি, তারা ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চালও তুলতে পারেনি। ওই ইউনিয়নে কার্ডধারীরা প্রথম দফায় চাল নিতে ব্যয় করেছে ৩০০ টাকার স্থলে ৬০০ টাকা। তবে যারা ঘুষ দেয়নি, তারা কার্ডও পায়নি, চালও পায়নি।

নোয়ারপাড়া ইউপি সদস্য আলী হোসেন ও সুরুজ্জামান দাবি করেন, হতদরিদ্রদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে তালিকাভুক্তি ও কার্ডের জন্য কোনো টাকাপয়সা নেওয়া হয়নি।

নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান, তালিকাভুক্ত হতদরিদ্রদের হাতে কার্ড পৌঁছানোর জন্য ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ইউপি সদস্য যদি টাকার জন্য কারো কার্ড আটকে রাখেন, খোঁজখবর নিয়ে তাদের নামে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম এহছানুল মামুন জানান, তালিকা প্রণয়নে কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য