kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নলছিটিতে মাপে কমবেশি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নলছিটিতে মাপে কমবেশি

দলীয় প্রভাব দেখিয়ে নেওয়া হয়েছিল ডিলারশিপ। সরকারি গুদাম থেকে চাল নিয়ে রাখা হয় ডিলারের ভায়রার বাড়িতে।

আর সেখান থেকে হতদরিদ্রদের কাউকে ৩০ কেজির স্থলে দেওয়া হচ্ছে ২৭ কেজি, পক্ষান্তরে আবার ঘনিষ্ঠদের দেওয়া হচ্ছে ৩২ কেজি। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে তিমিরকাঠি গ্রামে চলছে হতদরিদ্রদের চাল নিয়ে এমনই চালিয়াতি। চাল কমবেশি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নেও। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার দপদপিয়া ও সুবিদপুর ইউনিয়নের দুজন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ডিলার রেজাউল করিম তাঁর নিজের বাড়িতে চাল না রেখে রাখেন ভায়রা নলছিটির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহসিন হাওলাদারের বাড়িতে। তাঁর বিরুদ্ধে পছন্দের লোকজনকে ওজনে বেশি আর প্রকৃত দরিদ্রদের কম চাল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু দপদপিয়া নয়, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নেও। ওই ইউনিয়নের ডিলার সাইদুল ইসলাম তালতলা বাজারে বসে রেজিস্টার খাতায় নাম না লিখেই ইচ্ছেমতো ২৫-২৭ কেজি করে জনপ্রতি চাল দিচ্ছেন। বিষয়টির সত্যতা পেয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দপদপিয়া ও সুবিদপুর ইউনিয়নের দুজনের ডিলারশিপ বাতিল করেছেন।

চাল নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্ডধারী কয়েকজনের অভিযোগ, ডিলারশিপ রেজাউলের নামে হলেও এটা পরিচালনা করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মহসিন হাওলাদার। তিনি তিমিরকাঠি এলাকার বাসিন্দা, তাই ওই এলাকার পছন্দের লোক ও স্বজনদের ওজনে বেশি চাল দিচ্ছেন। প্রকৃত হতদরিদ্রদের দিচ্ছেন ২৭-২৮ কেজি করে।

এ ব্যাপারে ডিলারের ভায়রা মো. মহসিন হাওলাদার বলেন, ‘রেজাউল করিম আমার ভায়রা। তাঁর পাকা ভবন নেই, তাই আমার বাড়ি-কাম দোকানে বসে চাল বিক্রি করা হয়। এটা তাঁকে আমি ভাড়া দিয়েছি। ডিলারশিপ আনার ব্যাপারে আমার কোনো হাত ছিল না। ’

দপদপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, ‘চাল কমবেশি দেওয়া নিয়ে অনেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। ইউএনও মহোদয় এসে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছেন। ’

নলছিটি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. মেজবাহ উদ্দিন রুবেল বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নলছিটিতে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজিদরে চাল বিক্রি শুরু হয়। ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দুটিতে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদা বলেন, ‘চাল সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য দপদপিয়া ও সুবিদপুর ইউনিয়নে গিয়েছিলাম। দপদপিয়ায় ডিলার তার ভায়রার বাসায় নিয়ে চাল বিক্রি করছেন। আমি নিজেই দেখেছি, কোনো কোনো বস্তায় ৩০ কেজির কম এবং কোনো কোনোটিতে ৩০ কেজির বেশি চাল দেওয়া হচ্ছে। সুবিদপুরেও একই অবস্থা দেখেছি। ওই দুজনের ডিলারশিপ বাতিলের পাশাপাশি জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান নিয়মিত চলবে। ’


মন্তব্য