kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল পালিত

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (ল্যান্ড কমিশন) আইনের সংশোধনী বাতিলের দাবিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে গতকাল বৃহস্পতিবার হরতাল পালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হরতালের ঘোষণা থাকলেও পরে তা কমিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়।

বাঙালিদের সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য গণপরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্রঐক্য পরিষদ এ হরতালের ডাক দেয়। একই দাবিতে আগামী রবিবার ২৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করবে সংগঠনগুলো। তাদের দাবির মধ্যে বান্দরবান থেকে গ্রেপ্তার বাঙালি নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তিও রয়েছে।

গতকাল ভোরে খাগড়াছড়ির মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত ল্যান্ড কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। পুলিশ এসে টায়ারগুলো সরিয়ে নেয়। সকাল ১১টায় আন্দোলনকারীরা ল্যান্ড কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। এ সময় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ। পুলিশের অনুরোধে প্রায় আধাঘণ্টা পর ঘেরাও তুলে নেয় তারা। এ ছাড়া সারা দিনই হরতাল সমর্থকরা শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করে।

হরতালে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। খোলেনি দোকানপাট। হরতালের কারণে বেকায়দায় পড়ে পর্যটকরা। কিছু পর্যটকবাহী গাড়িকে পুলিশের নিরাপত্তায় পৌঁছে দেওয়া হলেও অধিকাংশ পর্যটক সাজেক, আলুটিলাসহ পর্যটন স্পটগুলোতে যেতে পারেনি। বৃহস্পতিবার হাটবার থাকায় সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়ে। বহু পাহাড়ি মাথায় করে মালামাল নিয়ে বাজারে এলেও দ্রুত কম দামে বিক্রি করে চলে যায়। অনেকে সাপ্তাহিক বাজার না নিয়েই ফেরে বাড়িতে।

এদিকে জেলা সদরের দু-একটি এলাকায় পিকেটাররা পাহাড়ি লোকজনকে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা আব্দুল মজিদ। সহকারী পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন জানান, তাঁরাও লাঞ্ছিত করার খবর শুনেছেন। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাশত করা হবে না।

হরতালের সমর্থনে সকাল থেকেই রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করে সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। রিজার্ভবাজার, বনরূপা, তবলছড়ি, কলেজ গেট ও ভেদভেদী এলাকায় পিকেটিং করতে দেখা গেছে তাদের। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের তৎপরতার কারণে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি পিকেটাররা। এদিকে মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ।

হরতালে রাঙামাটি শহরের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। রাঙামাটি শহর ছাড়াও লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী উপজেলা থেকেও শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাঙালি অধ্যুষিত লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজার, লংগদু বাজার, বাইট্টাপাড়া বাজার ও করল্যাছড়ি বাজারে কোনো দোকানপাট খোলেনি। এসব বাজারে পিকেটিং করে বাঙালি সংগঠনের সদস্যরা। সকালে বাইট্টাপাড়া বাজারে হরতাল সমর্থকরা মিছিল করতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।


মন্তব্য