kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নন্দীগ্রামে প্রতিমা বিসর্জনে লাঠিপেটা

হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠানে লাঠিপেটার পর বগুড়ার নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন। এ ছাড়া আহত নারীকে চিকিৎসার টাকা দিয়ে সমঝোতা করেছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলার চানপুর উত্তরপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, গত মঙ্গলবার বিজয়া দশমী শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নন্দীগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে যায়। প্রতিমা বিসর্জনে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি (ধীরেন্দ্রনাথ) পুলিশকে জানান, রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করা হবে। এতে পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে লাঠিপেটা করে। হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করতে যায়। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় রঞ্জনা রানী আহত হয়ে জ্ঞান হারান। এ ছাড়া সবুজ মহন্ত, মিঠুন ঘোষসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া থেকে বিরত থাকে। একপর্যায় পুলিশ সদস্যরা জুতা পায়ে মন্দিরে প্রবেশ করে টেনেহিঁচড়ে প্রতিমা বের করার চেষ্টা করে। এতে সরস্বতী প্রতিমার একটি হাত ভেঙে যায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে রাত সাড়ে ৮টায় প্রতিমা বিসর্জন শেষ করা হয়। বিষয়টি রাতেই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের জানানো হয়।

ধীরেন্দ্রনাথ বলেন, ‘কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ নারী-পুরুষের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ কারণে দোষীদের শাস্তির দাবিতে আমরা সমপ্রদায়ের লোকজনের গণস্বাক্ষর করেছি। ’

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, নন্দীগ্রাম উপজেলা কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন বলেন, ‘পূজামণ্ডপে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ সদস্য সামছুল রহমানের উসকানিতে পুলিশ বাড়াবাড়ি করেছে। পুলিশের আচরণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক বসে। ইউএনও শরিফুন্নেছা মারপিট করার অভিযোগ জানতে থানার ওসিকে ডেকে পাঠান। সেখানে ওসি আবদুর রাজ্জাক ও অভিযুক্ত এসআই শাহিন হাত জোড় করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট চলা বৈঠকের পুরো সময় এ দুই পুলিশ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে থাকেন। এ ছাড়া পুলিশের লাঠিপেটায় আহত রঞ্জনা রানীকে ওসি চিকিৎসার জন্য চার হাজার টাকা এবং ইউপি চেয়ারম্যান দুই হাজার টাকা অনুদান দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন, সাধারণ সম্পাদক মহাদেব রায়, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভারত চন্দ্র রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান, থালতা মাঝগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন, চানপুর উত্তরপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষসহ অন্যরা।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। তার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং লাঠিপেটায় আহতদের চিকিৎসার খরচ দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা মেনে নেওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। ’


মন্তব্য