kalerkantho


নাঙ্গলকোটে নিখোঁজের ৫ দিন পর ছাত্রের লাশ

মাথা মিলল পুকুরে দেহ ধানক্ষেতে

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাথা মিলল পুকুরে দেহ ধানক্ষেতে

ছেলে শাহাদাত হোসেন সিফাতের (ইনসেটে) লাশ উদ্ধার হওয়ার পর মা হাসিনা আক্তার আহাজারি করছেন। ছবিটি গতকাল দুপুরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কৈরাশ গ্রাম থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুকুরের পানিতে ভাসছিল মাথা। আর পুকুর পাড়ের ধানক্ষেতে পড়ে ছিল দেহ। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এমন লাশ পেয়ে হতভম্ব পরিবার।

নিহত শাহাদাত হোসেন সিফাত (১৫) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কৈরাশ গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। সে উপজেলার জোড্ডা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। কৈরাশ গ্রামের মাহাবুবুল হকের বাড়ির পুকুর থেকে মাথা এবং পুকুর পাড়ের মান্নান মিয়া ও সফিক মিয়ার ধানক্ষেত থেকে তার দেহটি উদ্ধার করা হয়।

ছাত্রের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিফাত গত রবিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। আর ফেরেনি। এরপর আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও সন্ধান পায়নি।

সর্বশেষ গতকাল সকালে পুকুরে গলা কাটা মাথা দেখতে পায় স্থানীয়রা। এর কিছুক্ষণ পর পাশের ধানক্ষেতে মরদেহ খুঁজে পায় এলাকাবাসী। লোকমুখে এ ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই স্থান থেকে মাথা ও মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে, সন্তান হত্যার খবর পেয়ে বিলাপ শুরু করেন মা। তাঁর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে এলাকার আকাশ-বাতাস। কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিবেশীরা। তারাও এ ঘটনায় হতবাক।

একপর্যায়ে বিলাপ করতে করতে সিফাতের মা হাসিনা আক্তার বলেন, ‘গত রবিবার বিকেলে ছেলে কবুতরকে খাবার দিয়ে নতুন জামা-কাপড় পরে খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ। আমরা আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। ’

নিহতের বড় ভাই শাফায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘চাচা জাহাঙ্গীর আলম, হারুনুর রশিদ, ছালেহ আহম্মদ ও ফুফা ইউছুফ মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাজমি নিয়ে আমাদের বিরোধ। ২০ দিন আগেও তাঁদের সঙ্গে জমি নিয়ে আমাদের কথাকাটাকাটি হয়। ওই দিন একপর্যায়ে তাঁরা হুমকি দিয়ে বলেন, জমিতে গেলে আমাদের লাশ ফেলে দেবেন। ’ তাঁর ধারণা, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচারা হত্যা করে এভাবে লাশ ফেলে গেছে।

তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম, ছালেহ আহম্মদ ও হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ভাতিজা শাফায়েত ও সিফাতের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ হয়নি। ভাতিজারা আমাদের দেখলে অনেক সম্মান করত। সিফাত ছেলে হিসেবে অনেক ভালো। বৃহস্পতিবার সকালে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই। এতে আমরাও শোকাহত। ’

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. আইয়ূব বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, তিন-চার দিন আগে হত্যার পর বুধবার রাতে পৃথক স্থানে মাথা ও মরদেহ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ’

 


মন্তব্য