kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি

শ্রমিকরা আন্দোলনে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আশুলিয়ায় বন্ধ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া ও শ্রমিকদের আইনি ক্ষতিপূরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বলিভদ্র এলাকায় অবস্থিত আনজির অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২-এর শ্রমিকরা গতকাল মঙ্গলবার বাইপাইল চৌরাস্তা মোড়ে করিম সুপারমার্কেটে অবস্থিত আনজির কারখানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে বন্ধ করা হয়েছে কারখানাটি।

সকালে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয় ও সমাবেশ করে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলে। পরে শিল্প পুলিশের পক্ষে পরিদর্শক সাইদুল ইসলামের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী রবিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করে চলে যায় শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকরা হুঁশিয়ার করে বলেছে, রবিবারের মধ্যে সমস্যার সমাধান না করা হলে বিজিএমইএ অফিস ঘেরাওসহ আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে শ্রমিকরা। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, স্বাধীন বাংলা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, শিল্প ফেডারেশনের আশুলিয়া অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ঠাণ্ডু, শ্রমিক নেতা আব্বাস উদ্দিন, নাঈম খান প্রমুখ।

কারখানার শ্রমিক মামুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে শ্রমিকরা অভিযোগ করে, গত ১ অক্টোবর কারখানাটি বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২০০ শ্রমিককে কোনো পূর্ব নোটিশ না দিয়ে বেআইনিভাবে কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে। কারখানাটি চালুর দাবিতে শ্রমিকরা মালিকপক্ষ, বিজিএমইএ, শিল্প পুলিশ, ডিসি, এসপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে লিখিতভাবে জানালেও বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয়নি কোনো পক্ষই। তাই শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছে।

কারখানার শ্রমিক দেলোয়ার বিলকিস, রফিকসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে আলাপ-আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিয়ে জোর করে কিছু কিছু শ্রমিককে নামমাত্র টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিদায় করা হচ্ছে। শ্রমিকদের আইনগত পাওনাদি থেকে বঞ্চিত করার জন্যই মালিকপক্ষ এই টালবাহানা করছে। বিষয়টির ব্যাপারে কারখানাটির কোনো কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি।

শিল্প পুলিশ-১ সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাই জোনের পরিচালক পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মালিকপক্ষ কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করেনি। তবে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। পুরনো কারখানার বেশির ভাগ শ্রমিক অটোমেশিন বসানো নতুন ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে। ৮০ থেকে ১০০ জন শ্রমিক নতুন কারখানায় না গিয়ে আন্দোলন করছে। মালিকপক্ষ কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী সব সুবিধা যেন দেয়, বিষয়টি দেখা হবে।

শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাশ বলেন, মালিকপক্ষ ইচ্ছা করলে তার কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে। তবে কারখানা সরিয়ে নিলে শ্রমিকদের নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে।


মন্তব্য