kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘুষ দিলে কার্ড, তদন্ত কমিটি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘুষ দিলে কার্ড, তদন্ত কমিটি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নে ঘুষের বিনিময়ে কার্ড পেয়েছে দরিদ্ররা। ঘুষ দিতে না পারায় কয়েকটি হতদরিদ্র পরিবার কার্ড পায়নি।

এসব অনিয়ম তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মোস্তফা ও ডিলার (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) অহেদুল ইসলাম শরীফের ছেলে মো. রফিক প্রতি কার্ডে ১০০-২০০ টাকা নেন। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগকর্মীদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। মোস্তফা ও রফিক তাঁদের স্বজনদের নামে কার্ড ইস্যু করেন। ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেককে পাঁচ কেজি চাল কম দেওয়া হয়েছে। যারা টাকা দিতে পারেননি তাঁদের কার্ড দেওয়া হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদে চাল নিতে আসা গালুয়া গ্রামের আবদুল হক, আবদুল জলিল ও হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রতিটি কার্ডের জন্য ওয়ার্ড সদস্যকে ১০০-২০০ টাকা দিতে হয়েছে। তার পরও ২৫ কেজি চাল দিচ্ছে ডিলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, গত সেপ্টেম্বরের চাল কার্ডধারীদের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেই চাল ১০-১৫ জন পাননি। অথচ তাদের কার্ডে লিখে দেওয়া হয়েছে দুই মাসের চাল তাঁরা নিয়েছেন।

ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা বলেন, ‘আমি নিয়মবহির্ভূত কোনো কাজ করিনি। প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ’

ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক কামাল বলেন, ‘মৌখিকভাবে এ অভিযোগ শুনেছি। যে ডিলার ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে প্রধান করে সোমবার বিকেলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 


মন্তব্য