kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চেয়ারম্যানের তালিকায় শ্যালক

মাগুরা প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চেয়ারম্যানের তালিকায় শ্যালক

মাগুরা সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কুছুন্দী ইউনিয়নে আত্মীয়স্বজন ও ভুয়া কার্ড এবং কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নে চাল বিতরণে জনপ্রতি চার-পাঁচ কেজি কম দেওয়া হচ্ছে।

কুছুন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, হতদরিদ্রদের চাল বিতরণের জন্য সম্মিলিতভাবে একটি তালিকা করার কথা। কিন্তু কুছুন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি) আবুল কাশেম মোল্লা তা করেননি।

ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আলাপ না করে আত্মীয়স্বজন ও ভুয়া লোকজনের নাম দিয়ে ২৩৫ জনের একটি তালিকা করেছেন।

এ তালিকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী ছাড়া আর কারো নাম নেই। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শৈলডুবি ও খর্দ কুছুন্দী গ্রামের হতদরিদ্রের নাম নেই। বরং ইউনিয়নের বাইরে পৌর শহরের লক্ষ্মীকান্দর ও বারাশিয়া গ্রামের ১০ জনকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসব ভুয়া তালিকাভুক্ত নামধারীদের চাল চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল হিমন কালোবাজারে বিক্রি করছেন। চেয়ারম্যানের তালিকায় তাঁর চাচাতো শ্যালক রানা, তাঁর স্ত্রী পলি বেগম, আরেক শ্যালক রিয়াজুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী সাদিয়া পারভিনসহ কমপক্ষে ৬০ জন ধনী আত্মীয়স্বজনের নাম আছে।

এদিকে তালিকা করার বিষয়ে মিঠুন মজুমদার, আব্দুল মান্নানসহ কুছুন্দি ইউপির ১৩ জন সদস্যের কেউ জানেন না।

এ ইউনিয়নের ডিলার আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমার কাছে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী যথাযথভাবে চাল বিতরণ করেছি। এ বিষয়ে আমার আর কিছু জানা নেই। ’ মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল হিমন বলেন, ‘তালিকা নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। পরে সেটি সমাধান করে ফেলেছি। ’

এদিকে কুচিয়ামোড়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহেব আলী ও জান্নাত হোসেনের অভিযোগ, ডিলার আলমগীর হোসেন গত মাসের ২৭ ও ৩০ তারিখ চাল বিক্রি করেন। কিন্তু ওজন তিন-চার কেজি করে দিয়েছেন।

কার্ডধারী জান্নাত হোসেন বলেন, ‘শুধু আমি না, এই ডিলারের কাছ থেকে যারা চাল নিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ২৫-২৬ কেজি চাল পেয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। ’

দিনমজুর সাহেব আলী বলেন, ‘আমার সন্দেহ হওয়ায় ডিলারের কাছ থেকে চাল নেওয়ার পর বাজারের একটি দোকানে নিয়ে ওজন করি। ২৭ কেজি দেখতে পাই। বিষয়টি ডিলার আলমগীরকে জানালে তিনি বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দেন। ’

অভিযুক্ত ডিলার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মাগুরায় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ছিলাম। এ কারণে চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র প্রার্থী) জাহাঙ্গীর হোসেন আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর পক্ষের লোকজনকে দিয়ে অভিযোগ করিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে আমি কাউকে এক ছটাক চাল কম দিইনি। ’

কুচিয়ামোড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কে বা কারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে, আমার জানা নেই। ’

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল করিম বলেন, ‘কুচিয়মোড়া ইউনিয়নের অভিযোগ পেয়েছি। ডিলারকে নোটিশ করে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো ইউনিয়নের অভিযোগ এখনো হাতে আসেনি। ’

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ওজন কম দেওয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছি। এরপর সব ডিলার, ইউপি সচিব, সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের ডেকে সভা করে সর্তক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য