kalerkantho


পিটিয়ে মজুরের হাত ভাঙলেন চেয়ারম্যান

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পিটিয়ে মজুরের হাত ভাঙলেন চেয়ারম্যান

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের পিটুনিতে ভাঙা হাত নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় দিনমজুর সাইফুল ইসলাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

ডান হাত ভাঙা, পায়ে সেলাইসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন দিনমজুর সাইফুল ইসলাম (৩০)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বলেন, পাঁচ দিন আগে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অভিযোগে তাঁকে পিটিয়ে এ হাল করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় গতকাল ঈশ্বরগঞ্জ থানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাইফুল।

সাইফুল ইসলাম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের মালিয়াটি গ্রামের আবদুল গফুরের (মৃত) ছেলে।

সাইফুল জানান, গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী অজিফা আক্তারের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করা হয়। এ নিয়ে তাঁর শ্বশুর আবদুর রাজ্জাক ওই দিন সন্ধ্যায় মেয়েকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক ঝন্টুর কাছে বিচার চান। চেয়ারম্যান সাইফুলকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ডেকে নিয়ে যান ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে তাঁকে বেঁধে বেধড়ক পেটান চেয়ারম্যান। এতে সাইফুলের ডান হাত ভেঙে যায়, ফেটে যায় ডান পায়ের একটি অংশ। আধাঘণ্টা পর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পরিষদের বাইরে রেখে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পায়ে দুটি সেলাই ও ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়।

সাইফুলের বড় ভাই শাহাজাহান জানান, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নিয়ে যেতে বললেও অর্থাভাবে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি তাঁর ভাইকে নির্যাতনের বিচার চান।

হাসপাতালে ছেলের পাশে থাকা মা রাবেয়া আক্তার জানান, সংসারের আয়-রোজগার করেন সাইফুল। তাঁর এ অবস্থায় এখন তিনি চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. কাজী সোলাইমান জানান, সাইফুল তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাঁর স্ত্রী অজিফাকে মারধর করেন। এ সময় শাশুড়ি বাধা দিতে গেলে তিনিও কিছুটা আহত হন। ঘটনাটি তিনি জানার পর উভয়কে নিয়ে মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তাঁর বিচার না মেনে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চান সাইফুলের স্ত্রী ও শাশুড়ি। পরে জানতে পেরেছেন, চেয়ারম্যান বিচার করে সাইফুলের হাত ভেঙে দিয়েছেন। জাটিয়া ইউপির চেয়ারম্যান ঝন্টু বলেন, সাইফুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুলকে পরিষদে ডেকে এনে বেত দিয়ে কিছুটা শাসন করা হয়েছিল। এতে তাঁর শরীরের কোনো ক্ষতি হয়নি। হাত ভাঙা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীকে কোদাল দিয়ে মারতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে কোদালের আঘাত লাগে তাঁর হাতে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খোরশেদ আলম জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


মন্তব্য