kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সিন্ডিকেটের পুরনো সিদ্ধান্ত না মেনে পদোন্নতির আয়োজন

আবদুল্লাহ আল মনসুর, শাবিপ্রবি   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ১৫২তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কামরান আহমেদ চৌধুরী নামের এক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে পদোন্নতির জন্য সব দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সাক্ষাৎকারের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পদোন্নতি দেওয়াকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আস্থাভাজন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সুপারিশে কামরান আহমেদ চৌধুরীকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুজনকে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দিতে আগামী ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সাক্ষাৎকারের সময় দেওয়া হয়েছে। দুজন হলেন সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফজালুর রহিম চৌধুরী এবং কামরান আহমেদ চৌধুরী। অথচ ২০১০ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৫২তম সভায় কামরান আহমেদ চৌধুরীর সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদকে সর্বশেষ পদোন্নতি বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাঁকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সাক্ষাৎকারের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে অন্যান্য যোগ্যতার বা শর্তের কোনোটিই তাঁর পূরণ হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তা নীতিমালা-২০১৪ অনুযায়ী সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (দশম গ্রেড) পদে চার বছরের অভিজ্ঞতা অথবা স্নাতক ডিগ্রিসহ ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে দুটির অধিক তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। কিন্তু কামরান আহমেদের এসএসসি, এইচএসসি এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া বিএ সার্টিফিকেটসহ সবগুলোতেই তৃতীয় বিভাগ।

নীতিমালা অনুযায়ী, পদ শূন্য থাকলে ওই পদে পদোন্নতি দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে প্রশাসনিক পদের চারটি পদই শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে পদোন্নতি পেতে যাওয়া আফজালুর করিম চৌধুরী ২০১০ সালে তৎকালীন উপহিসাব পরিচালক সাকের আলীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট শাস্তি হিসেবে তাঁর দুটি ইনক্রিমেন্ট কেটে দেয়। অথচ তাঁকেও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইউনুছ জানান, যেসব বিষয়ে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সে বিষয়গুলোতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সিন্ডিকেটেই যেতে হবে। অন্যথায় এটা নিয়মবহির্ভূত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার এ ঘটনা ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, সিন্ডিকেট ও পদোন্নতি বোর্ডের সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।


মন্তব্য