kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভালুকায় গৃহবধূর বিরুদ্ধে পরকীয়ার রটনা

সালিসে পেটালেন স্বামী ও স্বজনরা

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে গতকাল সোমবার সকালে সালিস বৈঠকে গৃহবধূকে (৪৫) পিটিয়েছেন স্বামী ও তাঁর আত্মীয়রা। তিন সন্তানের জননী ওই গৃহবধূকে ভালুকা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিচারের জন্য গতকাল সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক সালিস বসে স্বামীর বাড়িতে। সালিসে স্বামী, তাঁর চাচা আবদুস ছাত্তার, আবদুল মান্নান, চাচাতো ভাই (সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার মহিষখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক) শাহাদত হোসেন, জামান, আবু বক্কর, মোজাম্মেল, মোশারফ ও সাইদ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে চলা ওই সালিসে একপর্যায়ে স্বামী ও কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করেন ওই নারীকে। তাঁকে আটকে রাখা হয় ওই বাড়ির একটি ঘরে। এ ঘটনার খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ওই বাড়িতে গেলে গৃহবধূর মেয়ে অন্য নারীদের সহায়তায় তার মাকে উদ্ধার করে ভালুকা হাসপাতালে নিয়ে আসে।

গৃহবধূর মেয়ে বলে, ‘ছোট ভাই ও আমাকে রশি দেয়া বাইন্দা রাইখ্যা জামান, আবু বক্কর, আবু সাইদ, মোজাম্মেল, মোশারফ হোসেন, আবুল হাসেম ও অন্যরা মায়েরে অনেক পিটাইছে। হেই সময় আমি চিক্কার দেওনে একজনে কয়, ছেড়িডারে মাইরা ফালা। অনেক বাইরা গেছে। হের পরে মায়েরে ঘরের মইদ্যে আটকাইয়া রাখছে। ’

গৃহবধূর স্বামী জানান, প্রায় সাড়ে সাত বছর সৌদিতে চাকরি করে চার বছর আগে তিনি বাড়িতে আসেন। সৌদিতে থাকার সময় এক আত্মীয়ের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তা ছাড়া সৌদি থেকে পাঠানো টাকায় স্ত্রী তাঁর নামে জমি কিনেছেন। বেশ কিছু টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

গৃহবধূ বলেন, ‘স্বামী মাদকাসক্ত। বাড়িতে বসে গানবাজনা ও নেশা করে। পীরের সঙ্গে আমাকে অনৈতিক সম্পর্ক করতে বলে। এসব অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ায় আজেবাজে কথা তুলছেন। আমার ভাইয়ের টাকায় কেনা জমির কাগজপত্র না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে লোক ডেকে সালিস বসান। আমি মামলা করব। ’

সালিসে উপস্থিত থাকা আবদুস ছাত্তার বলেন, ‘স্বামী ও তার স্ত্রী দুজনই আমাদের আত্মীয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলমান বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য পারিবারিকভাবে বসেছিলাম। কিন্তু স্বামী আমাদের অজান্তে ছুটে গিয়ে তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। সালিসের কেউ তাকে মারেনি। ’


মন্তব্য