kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাল্যবিয়ের অনুমতি দিলেন কর্মকর্তা!

এম সাইফুল মাবুদ, ঝিনাইদহ   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাল্যবিয়ের অনুমতি দিলেন কর্মকর্তা!

ঝিনাইদহের মহেশপুরের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের হাতে লেখা বাল্যবিয়ের অনুমতিপত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় দরিদ্র পরিবার ভালো বর পেয়ে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। গত ৭ আগস্ট ওই কর্মকর্তা বিয়ের অনুমতি দেন।

বিয়ের পর মেয়েটি এখন স্বামীর সংসার করছে।

প্রতিবেশীরা জানায়, মেয়ের বাবা হতদরিদ্র একজন রিকশাভ্যান চালক। তাঁর মেয়ের বয়স ১৫-১৬ বছর হবে। দুই মাস আগে একই উপজেলার বুজতলা গ্রামের এক যুবক মেয়েকে বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করে। ছেলেটি ভালো হওয়ায় মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হন বাবা। বিয়ের আয়োজন করা হয়। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাল্যবিয়ে প্রতিরোধবিরোধী অভিযানের ফলে বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়। মেয়ের বাবা বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মাতবর ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। গ্রামের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের বাবা উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে যান। মেয়ের বিয়ের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। গত ৭ আগস্ট মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার লিখিত অনুমতি দেন। গত মাসের মাঝামাঝি মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে।

মহেশপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের বাবা খুবই দরিদ্র রিকশাভ্যান চালক ও অসুস্থ। কিছুদিন আগে তাদের বাড়িঘরসহ সব কিছু আগুনে পুড়ে গেছে। মেয়ের বয়স নির্ধারণের কোনো কাগজপত্র নেই। তা ছাড়া মেয়েটির শরীর স্বাস্থ্যও ভালো। বয়স ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। বাবা হতদরিদ্র হওয়ায় মানবিক কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করেই বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ’

মহেশপুর ইউএনও আশাফুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটির মা-বাবা খুবই গরিব। দুজনই খুব অসুস্থ। মেয়েটির কোনো বড় ভাই নেই। মা-বাবা অসুস্থ থাকায় মেয়েটিকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই। এ অবস্থায় কিছুদিন আগে তাদের বাড়িঘর আগুনে পুড়ে গেছে। মেয়েটির শরীর স্বাস্থ্য ভালো। মেয়েটির বয়সসীমা নির্ধারণ করার কোনো কাগজপত্রও নেই। ফলে মানবিকতা ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিয়ের এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মেয়ের পরিবারকে আমরা এক হাজার টাকা সাহায্যও করেছি। ’

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘১৮ বছরের নিচে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না, এটা একটা আইন। এ আইন ভেঙে এ ধরনের অনুমতি তাঁরা দিতে পারেন না। ’


মন্তব্য