kalerkantho


১৯ বছরের বন্ধ্যত্ব ঘুচছে

বগুড়া যুবলীগের সম্মেলন ১৫ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বগুড়া জেলা যুবলীগের তিন বছর মেয়াদের কমিটি গড়িয়েছে ১৯ বছরে। নেতাদের কারো বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই, কারো বয়স ৫০ ছাড়িয়েছে।

সময়ের পরিবর্তনে শীর্ষ নেতাদের বেড়েছে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা। মূল দলের নেতৃত্বেও জায়গা করে নিয়েছেন কেউ। শুধু পরিবর্তন হয়নি দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নেতৃত্ব। এতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা হলেও ছিল স্থবিরতা। অবশেষে সেই ১৯ বছরের বন্ধ্যত্ব ঘুচতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বগুড়া জেলা যুবলীগের সম্মেলন। এটাকে সফল করতে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ডিজিটাল ব্যানার টানানো হয়েছে। সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব ফিরে আসছে।

এদিকে জেলা কমিটির নেতৃত্ব জটের প্রভাব পড়েছে শহর ও সদর উপজেলা কমিটিতেও।

২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর এ দুটি কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১১ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম একটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে থাকায় ব্যস্ততা তাঁর সেখানেই বেশি। ২০০৪ সালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শীর্ষ পদে প্রার্থী হওয়া এই নেতা মূল দল থেকে ফিরেছেন যুবলীগে।

সদরের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক কলেজে শিক্ষকতা করেন। জেলা সভাপতির ছোট ভাই মাহফুজুল আলম ওরফে জয়কে সভাপতি ও উদয় কুমার বর্মণকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ বছর আগে শহর কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আজও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। স্বাভাবিক কারণেই ওই কমিটির সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। শহরের ২১টি ওয়ার্ডে কাগজে-কলমে কমিটি থাকলেও নেতারা নিষ্ক্রিয়। এসব কারণে এখন সবারই দাবি পুরাতন বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বের। এ জন্য সিলেকশন না হয়ে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছে অনেকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ১২ মে আওয়ামী যুবলীগ বগুড়া জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতা মঞ্জুরুল আলম মোহন সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা সাগর কুমার রায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই থেকে আর কোনো সম্মেলন না হলেও বিশেষ বর্ধিত সভার মাধ্যমে জেলা কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের কো-অপ্ট করা হয়েছে।

জেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মোহন সম্প্র্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায়ও জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় জেলা কমিটির কার্যক্রম গতিশীল করতে এ সম্মেলনের আয়োজন। এর আগে জেলা যুবলীগে সরকারি আযিযুল হক কলেজের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস আমিনুল ইসলাম ডাবলু, সরকারি শাহ সুলতান কলেজের সাবেক ভিপি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনসহ কয়েকজনকে কো-অপ্ট করাসহ পুরাতন নেতাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়।

জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম ডাবলু জানান, যুবলীগ হলো তারুণ্যোদ্দীপ্ত জয়গানের সংগঠন। যুব মেধা লালন, ধারণ ও এর বিকাশই হলো যুবলীগের অন্যতম লক্ষ্য।

জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সরকারি শাহ সুলতান কলেজের সাবেক ভিপি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন বলেন, সম্মেলন হলে দল আরো চাঙ্গা হবে।

এখন ১২ উপজেলা ও বগুড়া শহর কমিটিসহ জেলা শাখার ১৩ ইউনিট রয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ৩৭৬ জন নেতা কাউন্সিলর হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া ১৫ হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক ডেলিগেট সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে।

সম্মেলনের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এতে প্রধান বক্তা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।


মন্তব্য