kalerkantho


পূর্ববরাটি গ্রাম পুরুষশূন্য

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পূর্ববরাটি গ্রাম পুরুষশূন্য

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের পূর্ববরাটি গ্রামে গত রবিবার হামলায় দুই ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রামটি এখন পুরুষশূন্য। প্রিয়জন হারানো স্বজনদের কান্না থামছে না। ছবিটি গতকাল বিকেলে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুরো এলাকা পুরুষশূন্য। পাশের আজিমের বাজারের দোকানপাটও বন্ধ।

এখানে-সেখানে পুলিশের পাহারা। জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া কাউকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে ভয় আর আতঙ্ক মেশানো অবস্থা বিরাজ করছে কিশোরগঞ্জের পূর্ববরাটি গ্রামে।

এর আগে কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের পূর্ববরাটি গ্রামে রবিবার হামলায় দুই ভাই আবদুল মালিক (৫০) ও আবু সিদ্দিক (৪৫) নিহত হন। আহত হয় অন্তত ৫০ জন। গতকাল সোমবার বিকেলে নিহত দুই ভাইয়ের লাশ দাফন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবদুল মালিকের ছেলে শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রায় ছয় মাস আগে মামলা করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি শফিকুল উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ি আসেন। তাঁদের অভিযোগ, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

আর এর পেছনে সাবেক ইউপি সদস্য রবি মিয়ার ইন্ধন ছিল। তা ছাড়া মামলার আসামি জামিনে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত রবিবার সন্ধ্যায় মালেকের বাড়িতে হামলা করে অন্য পক্ষ। এতে দুজন মারা যান। পরে পাল্টাহামলায় আহত হয় উভয় পক্ষের বহু লোক।

গতকাল সোমবার দুপুরে নিহত দুই ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, আবু সিদ্দিকের স্ত্রী আসমা বেগম তাঁর ২৫ দিনের শিশুসন্তানকে নিয়ে বিলাপ করছেন। পাশে বসে বাবার জন্য চোখের পানি ফেলছে আরো দুই সন্তান রফিক (৯) ও কবিতা (৬)। আবদুল মালিকের ওপর হামলা হলে তাঁর স্ত্রী জুয়েনা বেগম গিয়ে স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। কিন্তু কোনো কথাই শোনেনি। তাঁদের দুই সন্তানও বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ব্যাপারে কথা বলার মতো তেমন কোনো পুরুষ মানুষ পাওয়া যায়নি ওই এলাকায়।

পরিবারের লোকজন জানায়, নিহতের অন্য দুই ভাই আবু বাক্কার, আবুল মালেক ও তাঁর ছেলে হানিফকেও কুপিয়েছে তারা। তাঁদের মধ্যে প্রথমজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের দাবি, পরিবারের সবাইকে হত্যা করতে চেয়েছিল প্রতিপক্ষের লোকজন।

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সাবেক ইউপি সদস্য রবি ও কাঞ্চন মিয়ার লোকজনই দুই ভাইকে খুন করিয়েছে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন আহত হয়। কিন্তু পুলিশের দাবি, আলামত দেখে তারা মনে করছে, হামলা চালাতে গিয়েই দুই ভাই খুন হয়েছেন। একই দাবি রবি মেম্বারেরও। সূত্র মতে, সংঘর্ষে আহত দুই পক্ষের অন্তত ২২ জন কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পুলিশের ভয়ে তাদের কেউ কেউ হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে। আহতদের অভিযোগ, পুলিশের উৎপাতে তাদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত দুই পক্ষের ১০ জনকে আটক করার কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। তবে এলাকার লোকজন বলছে, এ সংখ্যা আরো বেশি।

তবে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন কাউকে হয়রানি করার কথা অস্বীকার করে বলেন, রবিবার বিকেল থেকে পুলিশ গ্রামে পাহারা বসিয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।


মন্তব্য