kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় মোবাইল ফোনে!

আইনবহির্ভূত বলছেন পিপি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত রায় দিয়েছেন মোবাইল ফোনে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে অভিযোগ শুনে তিন মাদকসেবীকে সাজা দিয়েছেন।

গত শনিবার ঢাকায় বসে তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন তিনি।

তবে বিষয়টিকে আইনবহির্ভূত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কুড়িগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি। তাঁর মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারককে সশরীরে হাজির থাকতে হবে। তাঁর উপস্থিতিতে আসামি অভিযোগ স্বীকার করে নিলে বিচারক এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী রায় দেবেন। এ ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেছে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ‘ওসি সাহেব আমাকে মোবাইল ফোনে জানালেন যে তিনজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা দরকার।

কিন্তু আমি তখন ঢাকায় অবস্থান করছি। অভিযুক্ত মাদকসেবীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে,  এমন তথ্য জানানোর পরই আমি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছি। ’ এভাবে রায় দেওয়াকে তিনি আইনবহির্ভূত মনে করেন না বলে জানান।

তবে কুড়িগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, এভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে

মোবাইল ফোনে বিচারক রায় দিতে পারেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালতে রায় দিতে হলে বিচারককে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।

তা ছাড়া অভিযুক্তকে হাজির করার পর তার অপরাধ যদি স্বীকার করে তখনই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন বিচারক এবং সে ক্ষেত্রে বিচারক সাজা দিতে পারবেন। সেটাও ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারককে উপস্থিত থেকেই করতে হবে। আদালত এক জায়গায় আর বিচারক অন্য জায়গা থেকে মোবাইল ফোনে রায় ঘোষণার ঘটনা নজিরবিহীন।

রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত রায় অনুযায়ী জরিমানা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

রায় দেওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপস্থিত ছিলেন না। তবে মোবাইল ফোনে তিনি সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে মাদক সেবনের দায়ে উপজেলার মাদারটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তিন যুবককে আটক করে পুলিশ।

তারা হলো উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামের সোহরাওয়ার্দী মণ্ডলের ছেলে রাফিউল ইসলাম সোহাগ, সায়দাবাদ পশ্চিপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রফিকুল ইসলাম পারভেজ ও মির্জাপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে সজীব মিয়া।


মন্তব্য