kalerkantho


গাইবান্ধায় কালী প্রতিমা ভাঙচুর

চার নব্য জেএমবি আটক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন ধনকুঠি গ্রামে গতকাল রবিবার ভোরে মন্দিরের দরজা ভেঙে কালী প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বালাছিড়া থেকে চার নব্য জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, হাতুড়ি, দা, শাবল, কাস্তে, রেঞ্জ, করাত, টর্চলাইট ও হুমকিসংবলিত চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকরা হলো গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের খানের ভাতিজা (ছাপড়হাটী গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে ও লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র) ফয়সাল খান ফাগুন (১৭), একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে নজরুল ইসলাম খান (৩৫), মো. হানিফ মিয়ার ছেলে (মণ্ডলেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র) আশিকুল ইসলাম (১৬) ও আদর আলীর ছেলে (খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র) শহিদ মিয়া (১১)। তারা মোটরসাইকেলে এসে মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে নব্য জেএমবির নামে দায় স্বীকারসংক্রান্ত চিঠি রেখে পালিয়ে যায়।

তারা চলে যাওয়ার পর গ্রামের পাহারাদাররা মন্দিরের দরজা ও প্রতিমা ভাঙা দেখে চিৎকার করে। গ্রামবাসী এসে ভাঙা মূর্তির কাঠামোতে আগুন জ্বলতে দেখে। এদিকে খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বালাছিঁড়া থেকে ওই চারজনকে আটক করে।

আটক ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, এর আগে গত শনিবার রাতে তারা ডুরামারী গ্রামে নরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের বাড়ির কালীমন্দির আগুন দিয়ে পোড়ায়। গত ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সাদুল্যাপুর উপজেলার পূর্ব কেশালী ডাঙ্গা সর্বজনীন মন্দির ও দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করে। আরেকটি মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

কিন্তু এর আগে তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তারা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

এ উপলক্ষে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলাম গতকাল তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, ‘আটকরা মূর্তি পূজাকে অনৈতিক কাজ বলে মনে করে। এ কারণে তারা বিভিন্ন স্থানে মূর্তি ভাঙচুর করে। নব্য জেএমবি পরিচয় দিয়ে এসব ঘটালেও তাদের পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।


মন্তব্য