kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেহেরপুর পিরোজপুরে হাসপাতালে দুই নারী

যৌতুক যন্ত্রণা

মেহেরপুর ও পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যৌতুক না পেয়ে মেহেরপুর ও পিরোজপুরে দুই নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ৩০ নম্বর বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ শিরিনা খাতুন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার ইসলামনগর গ্রামের কোরবান আলীর (মৃত) ছেলে।

আহত শিরিনা জানান, বিয়ের সময় তাঁর বাবা উপঢৌকন হিসেবে সাধ্যমতো আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী দিয়ে ঘর সাজিয়ে দেন। এতে মন ভরে না শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। আরো এক লাখ টাকা দাবি করে। এ টাকা পরিশোধ করার জন্য সময় নেন মেয়ের বাবা। সঠিক সময়ে টাকা দিতে না পারায় স্বামী আলমগীর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন মেয়ে। এক বছর পর সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ির লোকজন গিয়ে তাঁকে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে আবার নির্যাতন শুরু করে। ঠিকমতো খেতে দিত না। প্রয়োজনমতো খেলে শাশুড়ি-ননদ গালি দিত। কথায় কথায় তাঁর স্বামী কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাত। কখনো কখনো রাতের আঁধারে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিত। সবশেষ তিন-চার দিন আগে তাঁকে নির্যাতন শুরু করলে প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে খবর দেয়। তাঁর বাবা গিয়ে উদ্ধার করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শনিবার তাঁকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেয়ের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের সময় সাধ্যমতো সামগ্রী দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিয়েছি। তার পরও জামাইয়ের দাবির এক লাখ টাকা দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। ’ অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন যৌতুকের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার ছোট একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি পরিবারের বড় সন্তান। ওই প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে মা, বোন ও ছোট ভাইকে নিয়ে সংসার চালাতে হয়। স্ত্রী সেই সংসার আলাদা করতে চাওয়ায় তার সঙ্গে বনিবনা হয় না। এর জের ধরে কয়েক দিন আগে তাকে মারধর করা হয়েছে। ’ আমঝুপি ইউপির সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘তাঁকে মারধর করা ঠিক হয়নি। ’ মেহেরপুর সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। ’

অন্যদিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বাঘাজোড়া গ্রামে গতকাল রবিবার এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দুপুরে গুরুতর আহত গৃহবধূকে ফাঁড়ি পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত গৃহবধূর বাবা বরইবুনিয়া গ্রামের ওয়াহাব আলী শেখ জানান, তাঁর মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া চম্পার (২৪) সঙ্গে তিন বছর আগে বাঘাজোড়া গ্রামের মোহাম্মাদ শরীফের (মৃত) ছেলে শাহীন শরীফের বিয়ে হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে মারধর করে আসছে।


মন্তব্য