kalerkantho

লাশের ঘোরাঘুরি!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কবর থেকে বাউফল থানা, পটুয়াখালী জেলা সদর—বরিশাল-বাউফল ঘুরে জেলা সদর হয়ে ফের বাউফলের কবরে স্থান হয়েছে লাশের। মাঝে পার হয়েছে প্রায় ৫০ ঘণ্টা।

ময়নাতদন্তের জন্য একটি লাশ কবর থেকে উত্তোলনের পর প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ ঘুরেছে। এর মাধ্যমে ময়নাতদন্তকারী কর্তৃপক্ষের অবহেলা স্পষ্ট হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মান্দারবন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি আব্দুল মোতালেব সিকদার। ৫৫ বছর বয়সী মোতালেব চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর মারা যান। এরপর তাঁর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু তাঁকে হত্যার অভিযোগ এনে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ৫ অক্টোবর বিকেলে বাউফল থানা পুলিশ কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে থানায় নিয়ে যায়। ৬ অক্টোবর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বাউফল থানা পুলিশ সকাল ১১টা ১০ মিনিটে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে।

সেখানে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মানস দাস ও পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন লাশটি বরিশালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে পুলিশ লাশটি ওই দিন রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশনা না থাকায় অন্য জেলার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা সম্ভব না মর্মে দায়িত্বরত চিকিৎসক লাশটি ফেরত দিয়ে দেন। পুলিশ ৬ অক্টোবর গভীর রাতে লাশটি নিয়ে বাউফল থানায় ফিরে আসে। এরপর ৭ অক্টোবর সকাল ১১টায় পুলিশ ফের লাশ নিয়ে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। সেখানে দায়িত্বে থাকা ডা. রেজাউল করিম ময়নাতদন্ত করেন। এরপর ওই দিন রাতে পারিবারিক গোরস্তানে লাশটি দ্বিতীয় দফা দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘আগেও একাধিকবার এভাবে পুরনো (কবর থেকে উত্তোলন করা) লাশ বরিশালে পাঠানো হয়েছিল। তখন সেখানকার কর্তৃপক্ষ লাশের ময়নাতদন্ত করেছে। কিন্তু মোতালেব মিয়ার লাশের ক্ষেত্রে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। যার কারণে লাশটি নিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ’

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির গতকাল রবিবারের সভায় এ নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। তিনি লাশের ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরো আন্তরিক হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।


মন্তব্য