kalerkantho


নারায়ণগঞ্জে দুর্গোৎসব

শুভেচ্ছার ‘স্রোত’

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পূজা উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুনে দলীয় প্রধানসহ স্থানীয় নেতার ছবির সঙ্গে নিজের ছবিটি বড় করে জুড়ে দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর হিড়িক পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ  সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দলগুলোর নেতারা এ প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। শহরজুড়ে এখন  কেবল রং-বেরঙের এসব ব্যানার-ফেস্টুন।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপির নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। চাষাঢ়া, আমলাপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, নন্দিপাড়া, পালপাড়া, দুই নম্বর গেট, ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকা, নয়ামাটি—সর্বত্র শোভা পাচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন। কোনোটি শুধু নিজের ছবি দিয়ে আবার কোনোটি তাঁদের প্রিয় নেতার ছবি জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মূলত যাঁরা আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক তাঁরাই শুভেচ্ছা জানানোর প্রতিযোগিতায় এগিয়ে।

এদিকে বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন ছাপিয়ে ভালোই আয় করছে সংশ্লিষ্ট লোকজন। স্থানীয় একতা অ্যাড ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. জসীমউদ্দিন জানান, পূজাকে সামনে রেখে তাঁদের আয়-রোজগার ভালোই হচ্ছে। প্রচুর অর্ডার থাকায় ডেলিভারি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল বলেন, সম্প্রীতির শহর নারায়ণগঞ্জ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানানো এখানকার রীতি হয়ে গেছে। এটা একটা শুভ লক্ষ্মণ।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন জানান, নারায়ণগঞ্জে বিপুলসংখ্যক হিন্দুর বসবাস। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই ভোটের অগ্রিম প্রচারের সুযোগটি সবাই কাজে লাগাচ্ছে।

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও নাসিক কাউন্সিলর খন্দকার মাকসুদুল আলম খোরশেদ বলেন, ধর্ম যার যার হলেও উৎসবটি সবার। আর নারায়ণগঞ্জে রয়েছে সম্প্রীতির ইতিহাস। সে কারণে সবাই সবাইকে শুভেচ্ছা জানানোর রেওয়াজটি ঈদে ও পূজায় সমানভাবে দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রবিউল বলেন, ব্যানার-ফেস্টুনে শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর রীতিটি নারায়ণগঞ্জে বহু আগে থেকেই চলে আসছে। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাস করে।


মন্তব্য