kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিরিকা ধানে স্বপ্ন দেখছে জুমিয়ারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



উগান্ডা থেকে আমদানি করা উচ্চ ফলনশীল জাতের নিরিকা ধান আশা জাগিয়েছে বান্দরবানের পাহাড়ি জুমিয়াদের। সাধারণ জুম চাষের ক্ষেত্রে একবার চাষ করার পর ওই পাহাড় কয়েক বছর পতিত ফেলে রাখতে হয়।

কিন্তু নিরিকা ধান একই পাহাড়ে প্রতিবছরই চাষ করা সম্ভব। এ ছাড়া খরা সহনশীল হওয়ায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হলেও সেচ ছাড়াই এই ধান চাষ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলবে।

স্থানীয় কৃষিবিদরা জানান, ২০০৯ সালে উগান্ডা থেকে নিরিকা আনা হলেও চলতি খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে এই ধান বান্দরবানের পাহাড়ে ও সমতলের কয়েকটি প্রদর্শনী প্লটে চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে একটি প্রদর্শনী প্লটে গিয়ে দেখা গেছে, এক কানি (৪০ শতক) পাহাড়ি জমিতে স্থানীয় জাতের ৩৫০ (প্রায়) কেজি ধানের বিপরীতে নিরিকা ধান ফলেছে ৫০০ কেজি। অন্যদিকে সমতলে ৪৫০ (প্রায়) কেজি ধানের স্থলে নিরিকা ফলেছে ৭৫০ কেজি।

কৃষি সম্প্রসারণের কর্মকর্তা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চাষিরা জানিয়েছে, পাহাড় ও সমতলে নারিকা ধান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। ফলে বছরের পর বছর পাহাড়ি জমি পতিত ফেলে রাখার অভিশাপ থেকে মুক্তির সম্ভাবনায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছে দরিদ্র জুমিয়ারা।

বান্দরবান সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, বান্দরবানের ৮০০ চাষির মধ্যে বিনা মূল্যে ১০ কেজি করে নিরিকা জাতের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটে ১০ কেজি করে ধানের বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এবার যে ধান ফলবে, তা থেকে বীজ সংরক্ষণ করে প্রদর্শনী প্লটের চাষিরা আগামী বছর নিজেরা ব্যবহার করবেন এবং পার্শ্ববর্তী চাষিকে সম ওজনের স্থানীয় ধানের পরিবর্তে নিরিকার বীজ সরবরাহ করবেন। এর ফলে বান্দরবানসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উফশী জাতের নিরিকা ধান চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে।

চেমি ডলু পাড়ার জুমিয়া চাষি অং শৈ উ বলেন, একই পাহাড়ে প্রতিবছর জুম চাষ করতে পারলে দুর্গম পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে বসবাসকারী আদিবাসী ক্ষুুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত জুমিয়াদের বছরের অর্ধেকটা সময় না খেয়ে থাকতে হবে না।


মন্তব্য