kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি

পাথর তোলা বন্ধ ১২ মাস

ক্ষতি ১৮ কোটি টাকা

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল পাথরখনি পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি লিমিটেডে এক বছর ধরে পাথর তোলা বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতি মাসে দেড় কোটি টাকা করে এক বছরে ১৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া খনি থেকে পাথর তোলা বন্ধ থাকায় ৬০০ শ্রমিকের বেতনভাতা বন্ধ হয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। খনির ইয়ার্ডে মজুদ সব ধরনের পাথর গত আট মাস আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পাথর তোলা বন্ধ রয়েছে। দেশের একমাত্র সম্ভাবনাময় ভূগর্ভস্থ এই পাথর খনিতে উৎপাদন শুরু হয় ২০০৭ সালের ২৫ মে। সে সময় খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল উত্তর কোরিয়ার ‘নামনাম’। ওই প্রতিষ্ঠানটি চলে যাওয়ার পর বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট করপোরেশন (জিটিসি) ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর  তোলা শুরু করে। জিটিসি ১৭১.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ছয় বছরে ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর তোলার চুক্তি করে। কিন্তু তারা ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর তুলতে সক্ষম হয়। এরপর ফের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্টস সংযোজন ও স্থাপনের অভাবে পাথর তোলা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে গত ১৫ আগস্ট জিটিসির আয়োজনে মধ্যপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ফের পাথর তোলা শুরু হবে। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্টস সংযোজন ও স্থাপনই শেষ হয়নি। স্টোপ উন্নয়ন শেষ করে পাথর তোলা শুরু করতে আরো এক মাস লেগে যেতে পারে। সে হিসাবে আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে পাথর তোলা শুরু হতে পারে বলে খনি সূত্র থেকে বলা হলেও সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ১৪৪ কোটি টাকার মাইনিং ইকুইপমেন্ট আমদানির জন্য খনি কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র দেয় জিটিসি। কিন্তু যন্ত্রপাতির বাজার মূল্য ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জিটিসির মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে খনির নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার হস্তক্ষেপে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৫ কোটি টাকায় ইকুইপমেন্টস বিদেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয় মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি কর্তৃপক্ষ। ওই সময় জিটিসির অনুকূলে প্রায়োজনীয় সব ইকুইপমেন্টের জন্য ৩৬টি এলসি খোলা হয়। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ৩০টি এলসির মালামাল আসার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি সেগুলো আনতে পারেনি। জিটিসির একটি সূত্র জানায়, মূল খনন যন্ত্র রেইজ বোরিং মেশিনসহ ২১টি এলসির মালামাল খনিতে এসে পৌঁছেছে। চারটি এলসির মালামাল চট্টগ্রাম পোর্টে ও একটির যন্ত্রপাতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখানেই পড়ে রয়েছে।

এদিকে পদ্মা সেতুতে মধ্যপাড়ার পাথর বিক্রির সম্ভাবনা থাকার পরও তৃতীয় কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় ষড়যন্ত্রের কারণে পাথর তোলা বন্ধ রয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন খনির সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে দেশীয় উন্নতমানের পাথর পদ্মা সেতুতে ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পেছনে শক্ত কোনো হাত থাকা অস্বাভাবিক নয়। তারা আরো জানান, দেশে নদীশাসন, সেতু, ভবন ও সড়কসহ সব ধরনের নির্মাণকাজে পাথরের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে পাথর আমদানি করে চাহিদা মেটানো হচ্ছে। অথচ মধ্যপাড়ার পাথর উন্নতমানের হওয়ার পরও এই পাথর তোলা বন্ধ রয়েছে।


মন্তব্য