kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

জলসা বোট

আব্দুল্লাহ্ আল মনসুর, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জলসা বোট

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে বড় বাল্কহেড। কিন্তু ভেতরের দৃশ্য ভিন্ন রকম।

নৌকায় ঢুকলে প্রথমে চোখে পড়বে বড় একটা কক্ষ। পাশে স্টিলের পার্টিশান দিয়ে বানানো হয়েছে ছোট ছোট আরো কয়েকটা কক্ষ। জেনারেটর দিয়ে পুরো নৌকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আছে পর্যাপ্ত আলো ও বৈদ্যুতিক পাখা। নৌকার দরজা বন্ধ করে দিলে ভেতরে কী হচ্ছে, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।

প্রতি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই নৌকা কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার লোহাঘাট থেকে ছাড়ে। সারা রাত এলোপাতাড়ি ঘুরে বেড়ায় মেঘনার বুকে। ভেতরে চলে নানা অসামাজিক কাজ। এর নাম দেওয়া হয়েছে জলসা বোট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমল ও উসমান জলসা বোটের মালিক। তাঁদের পেছনে রয়েছে স্থানীয় পেটোয়া বাহিনী। এই বাহিনীর কয়েকজন আবার ক্ষমতাসীন দলের সদস্যও। তাঁরা নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে এ জলসা বোটের কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

একসময় ওই জলসা বোটে কাজ করতেন এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মালিকদের পাঁচটি মাইক্রোবাস রয়েছে। এসব মাইক্রোবাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মক্কেল (জুয়াড়ি) আনা-নেওয়ার কাজ করা হয়। পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণিতে প্রতি রাতে মাইক্রোবাসগুলো দাঁড়ানো থাকে।

সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার একজন ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না) গত রবিবার সন্ধ্যায় ভৈরব প্রেস ক্লাবে এসে অভিযোগ করেন, সপ্তাহে দুইবার তিনি ভৈরবে আসেন হাট করতে। গত শনিবারও এসেছিলেন। সঙ্গে ছিল আড়াই লাখ টাকা। সন্ধ্যায় এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে তিনি যান লোহাঘাটে। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ৭০-৮০ জন যুবক নিয়ে বোট যাত্রা করে। প্রায় সারা রাত মদ্যপ অবস্থায় জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হন তিনি। টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বড় হলরুমে বসে ডায়েস, ডাব্বা, ওয়ানটেন, ওয়ান এইট, চড়চরি আসর। ছোট ছোট রুমগুলোতে চলে অনৈতিক ব্যবসা। মদ ও নানা মাদক বিক্রি হয় ছোট আরেকটা রুমে। ’

কিছুদিন আগে স্থানীয় রোটারি ক্লাবে নৌ পুলিশের এক মতবিনিময় সভায় ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. সায়দুল্লাহ মিয়া জলসা বোটের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই সভায় পুলিশ, র‌্যাব, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর কয়েক দিন জলসা বোটের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এখন আবার নিয়মিত চলছে এর কার্যক্রম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘রাতে নদীতে নৌ পুলিশের ডিউটি নেই। এর পরও আমরা নৌ পুলিশ সুপারের অনুমতি সাপেক্ষে বেঙ্গল থানার পুলিশ নিয়ে অভিযান চালাব। ’

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিব খান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এমন অসামাজিক কার্যক্রম চলতে দিতে পারি না। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য