kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেশবপুরে বন্যায় ৭০ হাজার গাছ মরে গেছে

দুই মাসের বন্যার প্রভাব

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গত দুই মাসের (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) বন্যায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ মরে গেছে। কাঁঠাল, আম, সুপারি, আমড়ার পাশাপাশি শজিনা গাছ মারা যাওয়ায় অফুরন্ত ক্ষতি হয়েছে এলাকার মানুষের।

শুধু পৌর এলাকাতে মরে গেছে ৫০ হাজারেরও বেশি গাছ।

কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁজিয়া ও সদর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো গাছ মরে গেছে। বন্যার পানিতে উপজেলার ২৫৮ বর্গকিলোমিটারের ভেতর ১৬২ বর্গকিলোমিটার জায়গা প্লাবিত হয়। চোখের সামনে ফলদ গাছ মরে যেতে দেখে এলাকার কৃষক সমাজ হতবাক হয়ে পড়েছে।

কেশবপুর পৌর এলাকার ভবানীপুরের অধিবাসী রেজাউল বাশার খান বলেন, বন্যার পানিতে তাঁর ১৮টি সুপারি, সাতটি কাঁঠাল ও ১০টি আমগাছ মারা গেছে। প্রত্যেকটি গাছে ফলন হতো।

মধ্যকুল গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ২৬টি কাঁঠাল, ছয়টি আম ও একটি বড় আমড়া গাছ মারা গেছে। ’

কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মূলগ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘পরিবারের ৪২টি আমের কলম মারা গেছে। ’ পাঁজিয়া ইউনিয়নের হদ গ্রামের লাভলু বলেন, ‘আমার ১০টি আমগাছ মারা গেছে। ’

কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে কৃষকের পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মারা গেছে। ’

পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘এ ইউনিয়নে চার হাজার বিভিন্ন গাছ মারা গেছে। ’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব কুমার সানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ অবস্থা থাকলে গাছ ঠিকমতো খাদ্যগ্রহণ ও শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারে না। এ কারণে মারা যায়। আর কাঁঠাল গাছের গোড়ায় পানি উঠলেই মরে যায়। ’

পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, ‘৯টি ওয়ার্ডে ভয়াবহ বন্যা পরবর্তী জলাবদ্ধতার কারণে ৫০ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ফলদ গাছ সাবাড় হয়ে গেছে। এতে পৌর বাসিন্দাদের অফুরন্ত ক্ষতি হয়েছে। ’


মন্তব্য