kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দীঘিনালায় বীমা কম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ক্ষোভ

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দীঘিনালায় বীমা কম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ক্ষোভ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় সানফ্লাওয়ার লাইফ ইনসুরেন্সের বঞ্চিত গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল কম্পানির কর্মী জোসনা বেগমকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা বিক্ষোভ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সানফ্লাওয়ার লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানির এক মাঠকর্মীকে প্রতারণার অভিযোগ এনে শতাধিক গ্রাহক গতকাল শুক্রবার দুপুরে অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা ওই কম্পানির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনে।

পরে ওই মাঠকর্মীকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা মেয়াদি বীমা করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে দু-একজনকে টাকা ফেরত দিলেও তাদের দেওয়া হয়েছে জমা টাকার চেয়েও কম। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বোয়ারখালী পুরনো বাজার এলাকার মাঠকর্মী জোসনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জোসনাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বীমা গ্রাহক মো. মোস্তফা সওদাগর জানান, ১০ বছর মেয়াদি বীমা করে তিনি ২৪ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু ১০ বছর পার হলেও তিনি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। একই অভিযোগ জয়নাল আবেদীন, সেলিম উদ্দিন, বানু বেগমসহ অনেকের। সেলিম উদ্দিন জানান, তাঁর বীমা ছিল ১০ বছর মেয়াদি। কিন্তু ১২ বছর পার হলেও তিনি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

মো. ইব্রাহিম ড্রাইভার জানান, তিনি ১২ বছর মেয়াদি বীমা করে ৪৮ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক দেনদরবার করে তিনি ৪৫ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। অথচ তাঁর টাকা পাওয়ার কথা ছিল ৭২ হাজার।

তবে জোসনা বেগমের দাবি, যাদের বীমার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের কাগজপত্র অফিসে পাঠানো হলেও অফিস চেক দিতে দেরি করছে। এখানে মাঠকর্মী হিসেবে তাঁর কোনো দোষ নেই।

গতকাল দুপুরে উপজেলার বোয়ালখালী নতুন বাজারে সানফ্লাওয়ার বীমা কম্পানির উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ওই শাখার ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা ওসমান গনিকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার দীল মোহাম্মদ দীলু জানান, গ্রাহকদের কার কত টাকা পাওনা তার একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চলছে।

দীঘিনালা থানার উপপরিদর্শক ফয়জুল করিম জানান, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাত থেকে সানফ্লাওয়ার বীমা কম্পানির মাঠকর্মী জোসনা বেগমকে উদ্ধার করে থানায় এনে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য