kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছয় বছরেও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশ

বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন বাদী

নাটোর প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছয় বছরেও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নুর বাবু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র ছয় বছরেও দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, মামলাটি রাজনৈতিক ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় তদন্তে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

আর মামলার বাদী বলছেন, দীর্ঘসূত্রতায় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বিএনপির মিছিলে হামলা চালিয়ে সানাউল্লাহ নুর বাবুকে হত্যা করা হয়। এ সময় বড়াইগ্রাম পৌর মেয়র, চার সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যানসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পরের দিন ৯ অক্টোবর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নুর কচি বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ২৭ নেতাকর্মীসহ ৪৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা জামিনে মুক্ত আছে।

মহুয়া নুর কচি অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহ নুর বাবুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি বনপাড়া বাজারের উত্তর পাশে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ১০-১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায় এবং লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিছিলকারী অনেককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। হামলায় বাবু, বড়াইগ্রাম থানা যুবদলের সভাপতি রফিক সরদার, বিএনপিকর্মী আলী আহত হন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন চার সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান। বিএনপিকর্মীরা গুরুতর আহত বাবু ও রফিককে স্থানীয় পাটোয়ারী হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই বাবুর মৃত্যু হয়।

মহুয়া নুর কচি জানান, এ হত্যা মামলায় নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বর্তমানে বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কে এম এ জাকির হোসেন, বনপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন মোল্লা, বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, যুবলীগকর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলু, মাসুদ সোনার, সৈকত, রেজাউল করিম রিকন, ছাত্রলীগকর্মী রাপ্পু, সেলিম, হাশেম, বাদশাহ, যুবলীগ নেতা গৌতম চন্দ্র, রিপন সোনার, মালেক, মাহাবুব, জনি, আশরাফুল ইসলাম মিঠু, হাবিব, মমিন, বাবলু মোল্লা, লুৎফর, বাবু ও আশরাফকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত সবাই আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রথমে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও পরে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

মহুয়া জানান, তিনি বর্তমানে জিডিএস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ। ছয় বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তিনি বাবু হত্যা মামলায় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কে তা তিনি জানেন না। কেউ তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগও করেন না।

রফিক সরদার বলেন, সরকার নিজ দলীয় আসামিদের বাঁচাতে বাবু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুবিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা।

কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্তরা সরকারদলীয় সমর্থক ও প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগপত্র দিতে দেরি করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মামলার দীর্ঘসূত্রতা আর অভিযোগপত্র না দেওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশ তাঁরা। তাঁরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম এ জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাবু বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই খুন হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত নয়। তিনি বলেন, ‘বাবু আহত হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে পাটোয়ারী ক্লিনিকে ও পরে মাইক্রোবাসে অহেতুক বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা পরে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময়ে কী ঘটেছে তা জানার জন্য মাইক্রোবাসের যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বাবু হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে। ’

মামলার চতুর্থ তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহীর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, স্বাভাবিক আইন মেনেই মামলার তদন্ত চলছে। মামলাটি রাজনৈতিক ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় সময়ক্ষেপণ হচ্ছে তদন্তে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।


মন্তব্য